হামেশা ফুড ও কাশ্মীর গ্রুপে দুই রাতে ডাকাতি; ২০০ কেজি তামার তার, পিকআপ ও নগদ টাকা উদ্ধার, দুই আসামির স্বীকারোক্তি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পরপর দুই রাতে দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ২০০ কেজি তামার তার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, নগদ ৯৩ হাজার টাকা ও তামার ববিন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৪টার মধ্যে সোনারগাঁ থানাধীন হামেশা ফুড লিমিটেডের নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে একদল ডাকাত তামার তার, মনিটর ও মোবাইল ফোন লুট করে পিকআপে করে পালিয়ে যায়। এর পরদিন ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে একই কায়দায় কাশ্মীর গ্রুপ লিমিটেডের কারখানায় ডাকাতি করে তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় চক্রটি।
এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পিপিএমের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর তত্ত্বাবধানে এবং ‘বি’ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষের সহযোগিতায় অভিযান শুরু করে পুলিশ।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএম এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে দুটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। এসআই শেখ পারভেজ বিন কামাল চৌধুরী, এসআই রিফাত উদ্দিন ও এসআই এ.বি.এম. গোলাম কিবরিয়াসহ পুলিশের সদস্যরা ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে গত ৩১ অক্টোবর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—শরীয়তপুরের জাজিরা থানার নগরবোয়ালিয়া এলাকার রাদেশুল মাদবর ওরফে রাজু (৩০), কুমিল্লার তিতাস থানার দড়িমাছুমপুর এলাকার আবু সাঈদ ওরফে মোল্লা (৩৯), নরসিংদীর মাধবদী থানার কুরদোনাপাড়া এলাকার বাছের মিয়া (২৫), টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার মালিরচারা এলাকার অনিল বাবু (৩৫) এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার সেনপাড়া এলাকার ইমন হাসান ওরফে রাশেদুল (২৮)।
পুলিশ জানায়, রাজুকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা এলাকা থেকে এবং আবু সাঈদকে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন আনারকলি এলাকার হাফসা ট্রেডার্স থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর তিনজনকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ২০০ কেজি তামার তার, যা ৩০০ আরের ৪৪০ মিটার ক্যাবলের কভার থেকে পৃথক করা হয়েছে; ঢাকা মেট্রো-ন-২০-৬৮৫৮ নম্বরের একটি খোলা পিকআপ; লুট করা মালামাল বিক্রির নগদ ৯৩ হাজার টাকা এবং একটি তামার ববিন।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত রাজু ও আবু সাঈদকে ১ নভেম্বর আদালতে পাঠানো হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত রাজুর বিরুদ্ধে একটি ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অপর আসামি অনিল বাবুর বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ মোট ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।






