নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকায় কয়েকশত দোকানে অবৈধভাবে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে মাসে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদ্যুতের মিটার স্থাপন করে ওই চক্রটি বিভিন্ন ছোট-বড় দোকানে সংযোগ দিয়েছে। এরপর প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে টাকা আদায় করা হচ্ছে ওইসব দোকান থেকে। এক বাতি জ্বালালে দৈনিক ৬০ টাকা, দুই বাতি জ্বালালে ১০০ টাকা, একটি ফ্যান চালালে ১০০ টাকা এবং মুরগির বয়লার দোকানের ক্ষেত্রে দৈনিক ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা হলে মাসে সাড়ে ৪ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়িদের তথ্যমতে, এই চক্রের সদস্যরা হচ্ছে মোশারফ ওরফে বিদ্যুৎ চোর মোশারফ, মোজাম্মেল ওরফে ফোকিন্নি মোজাম্মেল, বাবুল ওরফে বেদ্দপ বাবুল, মাছ বেপারী মাসুদ, আমির হামজা কাউসার ওরফে সুধি কাউসার, মিঠু ওরফে কাইল্যা মিঠু, আলমগীর ওরফে বুইড়ার পোলা আলমগীর, বাঙালি ও থাই মিস্ত্রী ইসহাক। এই চক্রটি বিদ্যুৎ বাণিজ্য ছাড়াও চাঁদাবাজি, জবর দখলসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।
এছাড়া সব ফল দোকান থেকে চাঁদা উত্তোলন করে নাহিদ মুন্সী। চক্রের প্রধান চিহ্নিত চাঁদাবাজ কামাল ৫ আগস্টের পর সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় চাঁদাবাজি করার সময় ছাত্র-জনতার হাতে ধরা পড়ে। পরে গণধোলাই দিয়ে তাকে স্থানীয় সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যায় ছাত্ররা। চাঁদাবাজ কামাল অবৈধভাবে বিদ্যুতের মিটার নামিয়ে এই বাণিজ্য করছে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, ডিপিডিসির কর্মচারী রবিউল (আট নম্বর বই) এর যোগসাজসে এই বিদ্যুৎ বাণিজ্য হচ্ছে। এতে চাঁদাবাজদের পকেট ভারী হলেও সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাধ্য হয়েই তারা এই অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করছেন। বৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গেলে নানা জটিলতা ও সময়ক্ষেপণের কারণে তারা এই চক্রের শরণাপন্ন হচ্ছেন। তবে প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা গুনতে হওয়ায় তাদের ব্যবসায়িক খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
একাধিক দোকানি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা নিয়মিত বিল দিতে রাজি আছি, কিন্তু বৈধ সংযোগ পাওয়া কঠিন। তাই বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে অবৈধ লাইন ব্যবহার করছি।
স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে, কারণ এসব সংযোগ সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ও নিরাপত্তাহীন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্রঃ নারায়ণগঞ্জ টাইমস







