নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়ায় হকার্স মার্কেটের পেছনে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্ব নিয়ে শুভ হত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ড হিসেবে নাম উঠছে এসেছে আমলাপাড়ার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ফতের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী অনিকে ও তার সহযোগী সুমনের নাম।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টার মাইন্ড অনিক সুমন এখনও পতালক রয়েছে। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় অনিক ও সুমনের নাম উঠে এসেছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়ক থেকে শুভ চন্দ্র দাসের গুলিবিদ্ধ ও চাকুর আঘাতে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শুভ সদর থানার গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় শুভর বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
ডিবি জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে জানা যায়, অনিক ও সুমন শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর সহযোগী সোহানকে দিয়ে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়।
পরে অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল শুভকে ঘিরে ফেলে। এ সময় অনিক ও অহিদ শুভকে গুলি করেন এবং দলের অন্য সদস্যরা চাকু দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন, আমলাপাড়া মাদ্রাসাপাড়া এলাকার কালু মিয়ার ছেলে মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), আমলাপাড়ার ২১ নম্বর কেবি সাহা বাইলেন এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) এবং একই এলাকার মৃত সমর্চান সরদারের ছেলে মো. সোহান (২৪)।
অভিযানে একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
ডিবি আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অনিক, অহিদসহ অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের জন্য তদন্ত চলছে।








