নারায়ণগঞ্জ ।
,

কুতুবপুরে বাড়ছে অপরাধ, জোরালো হচ্ছে পৃথক থানার দাবী

বিশেষ প্রতিবেদক : শিল্প-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এক অঞ্চল প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জ। রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে নিকটবর্তী এই জেলায় ভাসমান মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কল-কারখানায় কর্মসংস্থানের দরুণ জীবন-জিবিকার তাগিদে সমগ্র বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা থেকেই শ্রমজীবি লাখো মানুষের আগমন রয়েছে এখানে। তথ্য বলছে, সাতটি থানা নিয়ে গঠিত এই জেলার সবচেয়ে গুরুত্ব ও ঘনবসতিপূর্ন অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম ফতুল্লা থানা এলাকা।


সমীক্ষা বলছে, পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই ফতুল্লায় আয়তন ও জনসংখ্যা বিচারে সবচেয়ে বৃহৎ গুরুত্বপূর্ন ইউনিয়নটির নাম কুতুবপুর। রাজধানীর সাথে সড়ক ও রেলপথে একাধিক সীমানায় সরাসরি সংযুক্ত রয়েছে আয়তনে বৃহত্তর এই ইউনিয়নটি। তার উপর সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ঘনবসতিপূর্ন এই ইউনিয়নের গুরুত্ব বেড়েছে বহুগুণে। সেই সাথে প্রশাসনিক দিক থেকে দেখা দিয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ।


কেননা, যত্রতত্র গড়ে উঠা অসংখ্য কল-কারখানার দরুণ ইউনিয়নটিতে হু হু করে বাড়ছে ভাসমান মানুষের সংখ্যা। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিপুল পরিমান এই ভাসমান মানুষের দরুন এ অঞ্চলে অপরাধ প্রবণতার হারও সবচেয়ে বেশি। পাড়া মহল্লার প্রতিটি অলিগলিতে মাদক তো বটেই; রয়েছে কিশোরগ্যাং ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপক দৌরাত্ম্য। প্রতিনিয়তই সংঘটিত হচ্ছে নানা অপরাধ।


বিশ্লেষকরা বলছেন, এসকল অপরাধ নিয়ন্ত্রনে ফতুল্লা থানা পুলিশ কর্মকর্তাদের তৎপরতা দেখা গেলেও থানার মোট সদস্য সংখ্যাটা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তার উপর রয়েছে থানা পুলিশের যানবাহন সংকটও! ফলে স্বল্প সংখ্যক জনবল দ্বারা সু-বিশাল এই জনপদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ও নিরবিচ্ছিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বেগ পেতে হচ্ছে ফতুল্লা থানা পুলিশকে।


ফলে আয়তনে বিশাল ও সবচেয়ে জনবহুল ইউনিয়ন কুতুবপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রনে শতভাগ সফলতা পাচ্ছে না ফতুল্লা থানা পুলিশ। ফলে কাঙ্খিত পুলিশি সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মাঝে।


এরই মাঝে শতভাগ পুলিশি সেবা ও প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বৃহত্তর কুতুবপুর ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক তথা নতুন থাকা গঠন করার দাবি বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে।


এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের এই দাবির সাথে একমত পোষন করে ইতিমধ্যেই কুতুবপুরকে ফতুল্লা থেকে বিভক্ত করে নতুন ও আলাদা থানা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আলামিন।


সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়ে এমপি আলামিন বলেন, ‘ফতুল্লা থানার ভৌগোলিক আয়তন ও কর্মপরিধি অনেক বড় হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়। এ কারণে ফতুল্লা থানাকে বিভক্ত করে একটি নতুন থানা প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’


সূত্র জানিয়েছে, ওই প্রস্তাবে রয়েছে কুতুবপুর ইউনিয়নের নাম। কেননা, ফতুল্লা থানাকে বিভক্ত করে কুতুবপুরে একটি নতুন থানা স্থাপনের জোরালো দীর্ঘদিনের। স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌক্তিক এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ফতুল্লা থানাকে ভেঙে নতুন থানা গঠনের ওই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।


এদিকে, এ দাবির স্বপক্ষে ইতিমধ্যেই বেশ কঠোর অবস্থান জানিয়ে আসছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি বাস্তবিক নানা কারণ ও প্রয়োজন তুলে ধরে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কুতুবপুরে পুলিশের আলাদা থানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনে সচেতন বাসিন্দাদের নিয়ে তিনি আন্দোলনে নামবেন।


বিএনপি নেতা হাজী শহীদুল্লার মত এমন দাবি রয়েছে এই অঞ্চলের অন্যান্য নাগরিকদেরও। তারা বলছেন, অপরাধ দমন ও পুলিশী সেবা নিশ্চিত করণে কুতুবপুরে পুলিশের আলাদা থানা প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। শেষ পর্যন্ত এই দাবির বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা দেখতে আপাতত অপেক্ষার বিকল্প নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >