নারায়ণগঞ্জ ।
,

পিবিআই এসআই দেলোয়ারের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, একতরফা প্রতিবেদনের অভিযোগ

ঢাকার সূত্রাপুরের আবাসন ব্যবসায়ী মো. ইকবাল লিটন অভিযোগ করেছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের অংশীদার এ এইচ এম কামরুল আলম ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে সিমেন্ট তুলে গোপনে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় তিনি প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার আর্থিক দায়ে পড়েন।

ইকবালের দেওয়া লিখিত বিবরণ ও তাতে উল্লেখ করা নথির তথ্য অনুযায়ী, বিরোধ মেটাতে ২০১৯ সালের মার্চে উভয় পক্ষ একটি পাওনা-দেনা সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। পরে কামরুল আলম নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের একটি জমি এবং ঢাকার সূত্রাপুরের একটি ফ্ল্যাট নিয়ে দুটি নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা দেন। ইকবালের দাবি, ওই ক্ষমতাবলে সম্পত্তি দুটি বিক্রি করে তিনি ৬০ লাখ টাকা আদায় করেন। বাকি ২৯ লাখ ২০ হাজার ৯৫০ টাকার জন্য দুটি চেক নেওয়া হলেও অর্থ পরিশোধ হয়নি।

এ ঘটনায় ইকবাল ২০২৬ সালের ২০ মে সূত্রাপুর আমলি আদালতে সিআর মামলা নম্বর ১৮০/২০২৬ করেন বলে তাঁর বিবরণে উল্লেখ আছে। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এসআই মনতো চন্দ্র দাস তদন্তপূর্বক রিপোর্ট পেশ করেন। সেখানে এইচ এম কামরুল আলমকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে মামলার এজাহার, আদালতের আদেশ, তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি এবং চেক দুটির ব্যাংক-সংক্রান্ত নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করে সত্যতা পাওয়া যায়।

আরও ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইকবাল আরও অভিযোগ করেছেন, খাজা ট্রেডিং কর্পোরেশনের পাওনা আদায়ের জন্য করা একটি নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট—এনআই অ্যাক্ট—মামলা পরিচালনার দায়িত্ব কামরুলকে দেওয়া হয়েছিল। ওই মামলায় একজন দেনাদারের সঙ্গে গোপনে আপস করে ১০ লাখ টাকার মধ্যে ৮ লাখ টাকা কামরুল আত্মসাৎ করেন বলে তাঁর দাবি।

অভিযোগটি নিয়ে ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ফৌজদারি মামলা নম্বর ৩৩৪/২০২৬ করা হয়েছে বলে ইকবালের বিবরণে উল্লেখ আছে।

পাল্টা মামলা ও পিবিআই প্রতিবেদন নিয়ে অভিযোগ

ইকবালের দাবি, তিনি ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করার পর কামরুল আলম তাঁর বিরুদ্ধে সম্পত্তি-সংক্রান্ত দলিল বাতিল ও প্রতারণার অভিযোগে একাধিক মামলা করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাগুলো হলো—নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নম্বর ২৬৯/২০২৬; নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে দেওয়ানি মামলা নম্বর ০৫/২০২৬; এবং ঢাকার সিভিল জজ আদালত-৭-এ দেওয়ানি মামলা নম্বর ০৩/২০২৬।

তিনি পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সৈয়দ দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগও করেছেন। ইকবালের দাবি, তাঁর পক্ষের সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণের সুযোগ না দিয়েই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

সিআইডি প্রতিবেদনের দাবিও

ইকবালের লিখিত বিবরণে বলা হয়েছে, ঢাকার ১ম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের একটি মামলায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করে সিআইডির একজন কর্মকর্তা প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং আদালত কামরুল আলমের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >