নারায়ণগঞ্জ । শুক্রবার
১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিতর্ক নেই, বাড়ছে জনপ্রিয়তা
রনির সামনে বড় সুযোগ!

তফসিল ঘোষণা না হলেও নারায়ণগঞ্জে বাজতে শুরু করেছে নির্বাচনী ডামাডোল। পাঁচটি আসনের সীমানা বিন্যাসের পর নির্বাচন কেন্দ্রীক আলোচনা এখন মানুষের মুখে মুখে। এই আলোচনায় অন্যতম এক নাম হয়ে উঠেছেন উদীয়মান তরুণ নেতা মশিউর রহমান রনি। বিএনপির অন্যতম চালিকা শক্তি তথা অংগ সংগঠন যুবদলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এই তরুণ নেতা। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব পদে থাকা মশিউর রহমান রনিকে নিয়ে তুমুল আলোচনা ও আগ্রহ দেখা দিয়েছে নেতাকর্মী এবং স্থানীয়দের মাঝে। ফলে সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে নব-গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে অন্যমত ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন মশিউর রহমান রনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে মশিউর রহমান রনির জন্য বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে অন্যতম এক নাম মশিউর রহমান রনি। সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। এই জেলায় আওয়ামী লীগের আমলে যখন বিএনপির ব্যনার ধরার মত লোকের সংকট দেখা দিয়েছিল, তখন ছাত্রদল ও যুবদলের ব্যনারে রাজপথ কাপাতো মশিউর রহমান রনি ও তার কর্মীরা। অনেকে যখন আঁতাতের পথ বেছে নিয়েছিল, তখন রনি ওসমান পরিবারের কুকীর্তি তুলে ধরে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে চক্ষুশূল হয়েছেন।

এমনকি শামীম ওসমানকে নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনার পর গুমের শিকারও হয়েছিলেন উদীয়মান এই তরুন নেতা। ক্রস ফায়ারের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এরপরও দমে যাননি তিনি। তার গতিশীল নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদল সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে। ঢাকার কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলোতেও রনির নেতৃত্বে রাজপথ কাঁপিয়েছেন নেতাকর্মীরা।

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তথা গণঅভ্যুত্থানে ব্যাপক ভূমিকা রাখায় মশিউর রহমান রনিকে জুলাই যোদ্ধা পদকে ভূষিত করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও রনির উপর আস্থা রেখে জেলা যুবদলের কমিটি এখনো বহাল রাখা হয়েছে।

এদিকে, নির্যাতিত নীপিড়িত এই উদীয়মান তরুণ নেতাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন তার অসংখ্য কর্মী ও অনুসারীরা। তারা মনে করেন, রাজপথ থেকে উঠে আসা মশিউর রহমার রনি নেতৃত্বগুণে অনন্য। রাজনীতি এবং ব্যক্তি জীবনেও রনি তার স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। আগামীতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন কেন্দ্রীক রাজনীতি এবং নির্বাচনে মশিউর রহমান রনি হয়ে উঠবেন অন্যতম এক নাম, অন্যতম আস্থা এবং ভরসার প্রতীক; রনিকে নিয়ে এমন স্বপ্ন দেখছেন তার অনুগত নেতাকর্মীরা। এমনকি ফতুল্লাবাসীর মাঝেও রনিকে নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা দেখা গেছে।

রনি নিজেও জন কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে তার জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে চলেছেন। তুলনামূলক অনুন্যত অঞ্চল ফতুল্লার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে মশিউর রহমান রনি কার্যকরি ভূমিকা রেখেছেন। অন্যান্য নেতারা যেখানে জলাবদ্ধতার শিকার ভুক্তভোগী মানুষের কাছে গিয়ে ফটোসেশনে ব্যস্ত, সেখানে মশিউর রহমান রনি এসবের বাইরে থেকে কাজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তিনি তার নিজ অর্থায়নে ইসদাইরের একটি খাল খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে ইসদাইর সহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে মশিউর রহমান রনিকে নিয়ে উচ্ছ্বাস চলছে।

জানা গেছে, ছাত্রজীবন থেকেই আপোষহীন ছিলেন মশিউর রহমান রনি। জাতীয়তাবাদী আদর্শে আদর্শিত হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তার। ধিরে ধিরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেন তিনি। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তিনি। তার বলিষ্ট নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে বিগত ১৭ বছর রাজপথ প্রকম্পিত করেছে নেতাকর্মীরা।

তৎকালিন প্রশাসনের প্রবল অভিযান ও ধরপাকরের মাঝেও ভীতু হননি রনি। এমনকি নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের তৎকালিন প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান ও তার পালিত বাহিনীর হুংকারের পাল্টা হুংকারও দিতে দেখা গিয়েছিল মশিউর রহমান রনিকে।

একটা সময় ছিলো, যখন নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীরা দলীয় কর্মসূচিতে নিজেদের ব্যানার ধরার মত লোক পেতেন না, এমনকি গ্রেফতার এড়াতে সিনিয়র নেতাদেরও অনেকে যখন রাজপথ এড়িয়ে চলতেন, তখন জেল জুলুম ও মামলার হুলিয়া মাথায় নিয়েও রনির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাহসিকতার সাথে দলীয় কর্মসূচি পালন করে গেছেন। বিনিময়ে হয়েছেন অসংখ্য মামলার আসামী, করেছেন কারাবরন। এমনকি শামীম ওসমানকে নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় গুমের শিকারও হতে হয়েছিল তাকে। ওই সময়ে রনির পক্ষে জোরারো অবস্থান দেখিয়েছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম মশিউর রহমান রনি। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে রনির খালাতো ভাই হওয়া সত্বেও ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও আশরাফুল ইসলাম রাফেল শামীম ওসমান ও অয়ন ওসমানের নির্দেশনায় রনির উপর নানা ভাবে নির্যাতন চালিয়েছিল। প্রতিটি মামলায় প্রথম সাড়িতে ছিলো রনির নাম। রনির বাড়িতে পুলিশ ও ডিবি পাঠিয়েও তারা হয়রানী করেছে বিগত সময়ে। রাজনৈতিক কারণে রিয়াদ ও রাফেলের সাথে দূরত্ব ছিলো রনির।

নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতা এবং মশিউর রহমান রনির অনুসারীরা বলছেন, এত ত্যাগ ও নির্যাতনের পরও একটি মহল রনির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। তারা রনির রাজনৈতিক উত্থানে ঈর্ষান্বিত বটে। তবে রনি তার স্বচ্ছতা, যোগ্যতা এবং নেতৃত্বগুণে এগিয়ে চলেছেন। তার এই গন্তব্য তাকে সফলতার শিখড়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন তার হাজারো অনুসারীরা।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আগামীতে মনোনয়ন ও নির্বাচনের প্রশ্নে মশিউর রহমান রনি যেন আরও বিনয়ী। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মশিউর রহমান রনি বলেন, ‘আমি আমার নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর সকল নির্দেশনা মেনে এবং তাকে অনুসরণ-অনুকরণ করে রাজনীতি করে যাচ্ছি। এই পথচলায় আমার অসংখ্য নেতাকর্মী এবং শুভাকাঙ্খি তৈরী হয়েছে। তারা হয়তো আমাকে নিয়ে নানা স্বপ্ন দেখতে পারে, এটা দোষের কিছু না। কিন্তু আমি মনে করি, আমার নেতা জনাব তারেক রহমান একজন বিজ্ঞ এবং বিচক্ষণ নেতা। তিনি দল, দেশ ও মানুষের প্রয়োজনে তার কোন কর্মীটাকে কখন কোথায় কোন ভূমিকায় রাখবেন, সেটা তিনি সবচেয়ে ভালো জানেন। আমি আমার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি যদি আমাকে এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমি অবশ্যই তার আস্থা এবং বিশ্বাসের প্রতিদান দিব ইনশাআল্লাহ।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >