নানা নাটকীয়তার পর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নতুন চমক দেখালো বিএনপির হাইকমান্ড। আসনটিতে শিল্পপতি মডেল মাসুদ ও বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খানের মাঝে যখন প্রার্থীতা নিয়ে আসল-নকলের প্রশ্ন উঠেছিল, তখনই তাদের উভয়কে পাশ কাটিয়ে ধানের শীষের প্রতীক তুলে দেয়া হলো সাবেক তিনবারের এমপি ও প্রবীন নেতা আবুল কালামের হাতে। দীর্ঘদিনের জল্পনা কল্পনা ও অভ্যন্তরীণ নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে আবুল কালামকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর তুমূল আলোড়ন চলছে রাজনীতিকাঙ্গণে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনজুড়ে দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক নয়া সমীকরণ।
জানা গেছে, বুধবার সকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্রে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আবুল কালামকে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করা হয়। মনোনয়ন পত্রের ফরম ও চিঠিপত্র মুহুর্তেই ছড়িয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। কালাম অনুসারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নানা মন্তব্য করতে শুরু করেন ফেসবুকে।
এর আগে এই আসন ঘিরে বিএনপির ভেতরে নানা ধরনের আলোচনা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম পর্যায়ে শিল্পপতি ও ক্রীড়া সংগঠক মাসুদুজ্জামান মাসুদের নাম মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দল। এতে তৃণমূল পর্যায়ে এক ধরনের প্রস্তুতিও শুরু হয়। হঠাৎ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মাসুদ। পরে নেতা-কর্মীদের চাপের দোহাই দিয়ে নির্বাচন করার কথা জানান তিনি। তবে সেই আলোচনা থেমে না যেতেই নতুন করে চমক সৃষ্টি করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি হঠাৎ করে গণমাধ্যমকে জানান যে তাকেই দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন খানের দাবিকে ঘিরে তখন ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকরা দলীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের লিখিত প্রমাণ চাইলে তিনি জানান, দেশের সকল মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে হোয়াটসএ্যাপে খোলা একটি গ্রুপে তিনি যুক্ত আছেন এবং ঢাকার গুলশানে অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ে দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে যেই প্রশিক্ষন সেমিনার হয়েছে, সেই সেমিনারে তাকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেমিনারে অংশগ্রহণও করেছিলেন সাখাওয়াত। এসকল বিষয়গুলোকেই প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে তখন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
অবশেষে বিএনপির মহাসচিবের স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে সব ধরনের জল্পনার অবসান ঘটে। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি আবুল কালাম।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আবুল কালাম জানান, আলহামদুলিল্লাহ, দল স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ত্যাগের মূল্যায়ন করেছে। দল আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। এই জন্য দল ও জননেতা তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। আগামীতে আমি আমার সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ দিয়ে দলকে এই আসন উপহার দিতে পারবো বলে আমি আশা রাখি।




