নারায়ণগঞ্জ । বুধবার
২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতা বদলালেও চিত্র বদলায়নি!

আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাবে নারায়ণগঞ্জে দাপিয়ে বেড়াতেন শামীম ওসমান ও তার অনুসারীরা| ক্ষমতা হারিয়ে তারা পালিয়ে গেলেও যেন তাদেরই প্রতিবিম্ব হয়ে উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতা| এই তালিকায় অন্যতম আলোচিত-সমালোচিত এক নাম এখন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান ও তার ছেলে সজীব সহ তাদের অনুসারী বেশ কয়েকজন| যারা ওসমান পরিবারের ফেলে যাওয়া সেক্টর দখলে নিয়ে নতুন মোড়ল সেজেছেন| চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদাবাজী সহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড|

ইতিমধ্যেই এমপি মান্নান পুত্র খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে| ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও তাকে দলীয় ভাবে বহিস্কার করেছেন| তবে, তথ্য বলছে, এখনো সজীবের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন বিতর্কিত সেক্টর| এমনকি এই অঞ্চলের বেশ কিছু সন্ত্রাসীরাও সজীবের সাথে রাজনীতির আড়ালে সখ্যতা গড়েছেন|

ফলে স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগের পতন ও ওসমানীয় সাম্রাজ্য ভেঙে গেলেও যেন তাদেরই প্রতিবি¤^ হয়ে আছেন এমপি পুত্র সজীব ও তার বিতর্কিত কিছু অনুসারী| এতে আওয়ামী লীগের শাসনামলের মত একই ধরনের সন্ত্রাসবাদ চলমান থাকলেও পাল্টেছে কেবল নিয়ন্ত্রকদের চেহারাটাই| পরিবর্তনের তাগিদে যেই গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল, সেই পরিবর্তনটাই যেন দেখতে পাচ্ছেন না এখানকার বাসিন্দারা| এমনটা বলছেন সচেতন মহল|

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে শুরু করে শহরতলী; সর্বত্রই ছিলো শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমানের দাপট| গড়ে তুলেছিলেন অঘোষিত এক সাম্রাজ্য| যেখানে অয়ন ওসমান রাজপুত্র হলেও সেনাপতির ভূমিকায় যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম শাহ-নিজাম ও শাহাদাত হোসেন সাজনু সহ ছিলেন প্রভাবশালী আরো অনেকেই| ক্ষমতার অপব্যবহার যেন তাদের ¯^ভাবে পরিণত হয়ে ছিলো| চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, ঝুট-সন্ত্রাস, নদী দখল, ফুটপাত, ডিস, ইন্টারনেট কিংবা হাট-ঘাট; সব ˆবধ-অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রন ছিলো তাদের হাতেই| এসবের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছেন| বর্তমানে বিদেশের মাটিতে পাড় করছেন আলিশান জীবন যাপন| ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগের পতন হলে তারা পালিয়ে যায়|

এবার সেই তাদেরই ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে এমপি মান্নান ও তার পুত্র সজীব সহ অন্যদের| এমপি পুত্র হওয়ায় সজীব যেন পা মাটিতেই ফেলেন না! অয়ন ওসমান যেমন আগের সাম্রাজ্যের রাজপুত্র সেজেছিলেস, তেমনই সজীবও একই অনুকরণে চলতে শুরু করেন| নিজেকে সর্বে সর্বা হিসেবে জাহির করছেন| অন্যদিকে, শাহ-নিজাম ও সাজনুদের অনুকরণে যেন সেনাপতির আসনে আছেন মান্নানের পিএস সেলিম হোসেন দিপু| সকল কাজের কাজী বনে গেছেন তিনি|

গণঅভ্যুত্থানের পর ওসমানীয়দের সেক্টরগুলো একে একে দখলে নিতে শুরু করে তারা| ওসমানীয় সাম্রাজ্যের ন্যায় দখল-দারিত্বের মহোৎসবে মেতে উঠেন বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে|
স্থানীয় তথ্য সূত্রে জানা গেছে, মান্নান এমপি হলেও আদোতে তার চালকের আসনে বসে খুটিনাটি সব কিছুরই নিয়ন্ত্রক হয়ে আছেন তারই পুত্র নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক খাইরুল ইসলাম সজিব| যেন আসনটির অঘোষিত এমপি তিনি! পিতার ক্ষমতার মোড়কে আসনজুড়ে প্রভাব বিস্তার করে যাওয়া খাইরুল ইসলাম সজিব সোনারগাঁও সিদ্ধিরগঞ্জের সকল কাজের কাজী বনে গেছেন| চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদাবাজী; এমন অভিযোগে আটক হলেও শেষ পর্যন্ত ‘অন্তরালের মিমাংসার দরুণ’ মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন| দিনভর গোয়েন্দা পুলিশের ডেরায় আটক থাকার পর অবশেষে মুচলেকায় ছাড়া পেয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসনিক সূত্র|

এমপি পুত্র ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবের এই চাঁদাবাজী ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়ে গোয়েন্দা বিভাগের কাছে| এতে গত ২১ জুন তাকে আটক করা হয়| বিষয়টি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র| ফলে বিএনপিকে নিয়েই বিরুপ মন্তব্য করতে দেখা যায় সমালোচকদেরকে| সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা সমালোচনার খোরাক পেয়ে বসেন| সজিবকে দলীয় পদ-পদবী থেকে তাৎক্ষনিক ভাবে বহিস্কার করা হলেও কী সমালোচনার দায় এড়ানো গেছে? সেই প্রশ্নও তুলেছে নিন্দুকেরা|

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >