নারায়ণগঞ্জ । বৃহস্পতিবার
১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধানের শীষে আস্থা রাখুন : চট্টগ্রামে বিশাল জনসভায় তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি গণতন্ত্রের দল, স্বাধীনতার দল। গণতন্ত্রের জন্য বিএনপির ধানের শীষের ওপর আস্থা রাখুন। ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে বিজয়ী করুন। তাহলে আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবো।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) নগরীর পলোগ্রাউন্ডে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান চট্টগ্রামবাসীকে সালাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন,‘‘অনরা ক্যান আছন’’? তিনি বিএনপি জনগণের রায়ে ক্ষমতায় আসলে প্রধান দুুটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন উল্লেখ করে বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য নিরাপদে করতে পারেন। আগামীতে আমরা আইন-শৃঙ্খলা কঠোরভাবে সুরক্ষা করবো। দ্বিতীয়ত আমরা যে কোন মূল্যে দুর্নীতির টুুঁটি চেপে ধরবো।

নির্বাচনে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সজাগ থাকবেন। তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রের সমানে জামাতে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য পুনরায় আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১২ তারিখ কেউ যাতে ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে তাহলে কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এটাই এদেশের মানুষের কাছে আমাদের অঙ্গিকার।

তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব সেই বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেটি হলো-দুর্নীতি। যেকোনো মূল্যে আগামী বিএনপি সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে এই দুটি (দুর্নীতি মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা) হচ্ছে আমাদের কমিটমেন্ট এই দেশের মানুষের কাছে। কারণ বিএনপি সরকার অতীতেও প্রমাণ করেছে ’৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্তহ যেই সরকার ছিল, তারা দুর্নীতিতে দেশকে নিচের দিকে নিয়ে গিয়েছিল।

২০০১ সালে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপনাদের রায়ে দেশের দায়িত্ব পান, তখন ধীরে ধীরে ধীরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে দেশকে বের করে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, আজকে আমি আপনাদেরসহ এখানে হাজার-লক্ষ মানুষের সামনে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই—আমরা যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, সেসব পরিকল্পনার মধ্যে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা দুর্নীতির মাধ্যমে সেগুলোকে বাধাগ্রস্ত করেন; তাদেরকে কোনো ছাড় আমরা দেব না ইনশাআল্লাহ।

‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ সময় এসেছে পরিবর্তনের। এই পরিবর্তনকে যদি সত্যিকারভাবে মিনিংফুল পরিবর্তন করতে হয়, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হয়; তাহলে আমাদের সকলকে আজ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তার আগে পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশস্থলে হাজির হয়ে আঞ্চলিক ভাষায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বললেন, ‘অনেরা ক্যান আছন (আপনারা কেমন আছেন)।’ এরপর মঞ্চের ওপারে থাকা নেতা-কর্মীরা ‘ভালা আছি (ভালো আছি)’ বলে উত্তর দেন। ২০ বছর পর চট্টগ্রামের কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দিলেন তারেক রহমান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি সমাবেশস্থলে ঢুকে শুরুতে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি মঞ্চে ওঠেন।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে শুরুতে বলেন, আজ আমরা সবাই একত্র হয়েছি একটা লক্ষ্য সামনে রেখে। অর্থাৎ, একটি পরিবর্তন সামনে রেখে আমরা একত্র হয়েছি। এই সেই চট্টগ্রাম, এই সেই পুণ্যভূমি, যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমি ও আমার পরিবারের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের আগমনকে ঘিরে ভোর থেকে মাঠে আসতে শুরু করেন নেতা-কর্মী, সমর্থকরা। চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলা থেকে এসেছেন নেতা-কর্মীরা। এই অঞ্চলের ৫ জেলার ২৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থীর কর্মীরা রঙ্গিন টি-শার্ট পরে সমাবেশে যোগ দেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা সরকারের সময়ে দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে। আমরা দেশের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম। গত ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। তাই ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এসেছে পরিবর্তনের জন্য। বাংলাদেশের মানুষ চায় নিরাপদ পরিবেশ, নিরাপদ চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা।

তিনি বলেন, আমাদের এই পরিকল্পনা তরুণ প্রজন্মকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে জনসংখ্যার অর্ধেক তরুণ, যারা কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবন চায়। বিএনপি হিসেবে আমরা চেষ্টা করি দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করতে এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে। বিএনপি সরকারের সময়ে আমরা লক্ষ লক্ষ মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছি। চট্টগ্রামের ইপিজেডগুলো সেই কর্মসংস্থানের উদাহরণ।

নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে আরও বেশি ইপিজেড তৈরি করা হবে, যাতে যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে পানিবদ্ধতা ও বন্যার সমস্যা দূর করতে আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করব। এটি দেশের নিরাপত্তা, জীবনমান এবং কৃষি-অর্থনীতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে নাগরিকদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আমাদের পরিকল্পনাগুলো বস্তবায়নের জন্য দেশের মানুষকে একত্রিত হতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের ভোট ও সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনে সক্ষম করতে হবে। তাহলে আমরা দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের এই পদক্ষেপগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারব। বক্তব্যের শেষে চট্টগ্রামের সকল আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।

নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে জনসভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমেদ, দলের ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আসলাম চৌধুরী আবু সুফিয়ান, সাইয়েদ আল নোমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >