নারায়ণগঞ্জ ।
,

ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে অনিয়ম, ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভ

ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে সুপারভাইজর ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মাগুরার মহম্মদপুর ও বাগেরহাটের চিতলমারীতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। এ দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে গতকাল রোববার বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন বিক্ষুব্ধরা ।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মহম্মদপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে সুপারভাইজর ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিএনপির একাংশ। এছাড়া নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবি করেন বিক্ষোভকারী নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা। অন্যদিকে অনিয়ম হয়নি দাবি করে বিএনপির আরেক গ্রুপ মিছিল-সমাবেশ করেছে।

গতকাল রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা মহম্মদপুরের ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিসহ ফ্যাসিস্ট ও ছাত্রলীগকর্মীদের নিয়োগের অভিযোগ করেন। বক্তারা বলেন, নীতিমালা অনুসরণ না করে সম্পূর্ণ অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে দলীয় একটি পক্ষের সুপারিশ মোতাবেক বৈষম্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া ও ইউএনওর অপসারণের দাবিতে বক্তব্য দেনÑমহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু মিয়া ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যার আকতারুজ্জামান আক্তার, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সাজ্জাদুল আলম খান নান্নু, যুবদল নেতা শেখ শাহানুর রহমান, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি পারভেজ আলম প্রমুখ।

অন্যদিকে মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মৈয়ুর আলী মৃধা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজর নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নীতিমালা অনুসরণ করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে গতকাল রোববার বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। ফ্যামিলি কার্ডের খানা তথ্যভান্ডারের জন্য লোক নিয়োগে অনিয়ম, বৈষম্য ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ করা হয়। বিক্ষোভকারীরা ব্যানারসহ ঝাড়ু ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ইউএনও খাদিজা আক্তার ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রণজিৎ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার ভয়ে সব অফিস বন্ধ ছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিএনপি নেতা কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ দলটির স্থানীয় নেতারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টা থেকে দুপুর প্রায় ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যালয়গুলোর সামনে অবস্থান নেন। এ সময় ইউএনও, সমাজসেবা, শিক্ষা অফিস, মৎস্য অফিসসহ সব দপ্তরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তারা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের খানা তথ্যভান্ডার সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজর পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শর্ত ছিলÑইতঃপূর্বে বিবিএসের ডিজিটাল জরিপকাজে অভিজ্ঞ এবং অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রার্থীদের এই নিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া হবে। কিন্তু তা না করে বৈষম্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে ওই দুটি পদে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে অনিয়মকারী ইউএনও খাদিজা আক্তার ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রণজিৎ বিশ্বাসের অপসারণ চান। এতে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির এমপি প্রাথী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল ফ্যামিলি কার্ড প্রদান। এ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। এজন্য জনগণ অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেনÑশরিফুল হাসান অপু, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, শিপন মুন্সি, জাকারিয়া মিলন, নিয়ামত আলী খান, জবরুল শেখ প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >