সিলেটে অনুমোদন ছাড়াই পাহাড়-টিলা কাটার অভিযোগ, নীরব প্রশাসন-পরিবেশ অধিদপ্তর! এবং খাদিমনগরের বহর মৌজায় দিনের পর দিন টিলা কেটে প্লট তৈরির অভিযোগ, ঝুঁকিতে বসতি ও পরিবেশ।
সিলেট নগরীর ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শাহপরান থানাধীন খাদিমনগর এলাকার বহর মৌজায় (জে.এল. নং-৭০) অনুমোদন ছাড়াই পাহাড়-টিলা কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি আবাসন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন স্থানে টিলা কেটে সমতল করে প্লট তৈরির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, শাহপরান বাহুবল এলাকার একটি মসজিদের সামনের অংশসহ আশপাশের কয়েকটি স্থানে গত কয়েকদিন ধরে পুনরায় টিলা কাটার কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি টিলা কাটার কার্যক্রম। ফলে প্রশাসনের নজরদারি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, খন্দকার আনোয়ার হোসেন ও তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত সেবুলসহ কয়েকজন টিলা কাটার সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্যও এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনুমোদন ছাড়া পাহাড়-টিলা কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়ার কারণে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন আশপাশের মানুষ। বিশেষ করে টানা বৃষ্টি হলে কাটা টিলার মাটি ধসে পড়া কিংবা বৃষ্টির পানির সঙ্গে মাটি নেমে এসে নিচু এলাকায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড়-টিলা কেটে উজাড় করার পাশাপাশি এসব এলাকায় অবৈধ স্থাপনাও গড়ে উঠছে।
পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, সিলেটের পাহাড়-টিলা নির্বিচারে কাটা হলে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে টিলা ধস, মাটি সরে যাওয়া ও আকস্মিক জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অনুমোদনবিহীনভাবে পাহাড়-টিলা কাটার অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে বহর মৌজাসহ আশপাশের এলাকায় পাহাড়-টিলা কাটার অভিযোগ সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।







