নারায়ণগঞ্জ । শনিবার
২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী ‘আম মেলা’ ১৮৩ জাতের আম প্রদর্শনের মাধ্যমে

ফরিদা পারভীন মেঘলা : আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেশি-বিদেশি ১৮৩ জাতের আম প্রদর্শনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ‘আম মেলা’। তোতাপুরি, জাদুজেম, শরবতি, ব্রুনাই কিং, কিউজাইসহ নানা জাতের আমের সমাহারে এ আয়োজন এখন দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।


বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলা চলবে শনিবার পর্যন্ত। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার আমচাষি, উদ্যোক্তা এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে একাধিক স্টল স্থাপন করা হয়েছে।


শুক্রবার সকালে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভিড় ‘আমের জাত প্রদর্শনী’ স্টলে। সেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎপাদিত ১৮৩ জাতের আম একসঙ্গে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ছাব্বিশ হাজারী গুটি, চাষা বুলি, কিউজাই, কেইট, ব্রুনাই কিং, ঊষাপন্নি, দিলসাদ, জাদুজেম, শরবতি ও তোতাপুরিসহ আরও বহু পরিচিত ও বিরল জাতের আম।


দর্শনার্থীরা জানান, একসঙ্গে এত বৈচিত্র্যময় আম তারা আগে কখনো দেখেননি। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার বিভিন্ন জাত সম্পর্কে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মেলায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।


অনেক দর্শনার্থী বলেন, তাদের নিজ জেলাতেও আম উৎপাদন হয়, কিন্তু এত জাতের আম একসঙ্গে দেখার অভিজ্ঞতা এই প্রথম। প্রতিটি আমের আকার, রং ও স্বাদ ভিন্ন হওয়ায় তা দর্শনার্থীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
আয়োজকরা জানান, প্রদর্শিত প্রতিটি আমের রয়েছে আলাদা স্বাদ, রং, আকৃতি ও বৈশিষ্ট্য।

একসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসব জাতের অনেক আমের চাষ হলেও সময়ের পরিবর্তনে বেশ কিছু জাত এখন বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মকে দেশি ও বিলুপ্তপ্রায় আমের জাতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং আমের বৈচিত্র্য তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুনাইন বিন জামান বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকার পুরোনো ও নতুন বাগান থেকে এসব আম সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রদর্শিত জাতগুলোর মধ্যে কিছু বিদেশি জাত থাকলেও অধিকাংশই দেশীয়। হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন জাত সংরক্ষণ ও পরিচিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কয়েকটি নির্দিষ্ট জাতের আমের চাষ বেশি হলেও এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা দেশি জাতগুলো নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >