মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর হতাশা আর তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা ব্রাজিল হাইতির বিপক্ষে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (২০ জুন) ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এল কার্লো আনচেলত্তির দল। আর প্রথম দল হিসেবে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির।
দুই ম্যাচ শেষে মরক্কোর সমান ৪ পয়েন্ট পেলেও গোলব্যবধানে (+৩) এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে এখন ব্রাজিল। আগের ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে থাকা মরক্কো (+১) এখন দুই নম্বরে নেমে গেছে। হাইতির বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা স্কটল্যান্ড ৩ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে তিনে। ফলে শেষ ম্যাচে পয়েন্ট পেলেও টানা দুই ম্যাচ হারা হাইতির আর শীর্ষ তিনে ওঠার কোনো সুযোগ নেই।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৮৭ নম্বরে থাকা হাইতির রক্ষণভাগে চাপের পাহাড় তৈরি করে ব্রাজিল। যদিও ১২ মিনিটে রাফিনিয়ার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। বার্সেলোনা তারকা মিনিট দশেক পর গোলের সহজ সুযোগও হাতছাড়া করেন। সব হতাশা ভেঙে ২৩ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ম্যাথিউস কুনহা। ভিনিসিয়ুসের শট হাইতি গোলরক্ষক জনি প্লাসিড ঠেকালেও ফিরতি বলে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড তারকা।
৩৬ মিনিটে আবারও ভিনিসিয়ুসের ঝলক। রিয়াল মাদ্রিদ তারকার বাড়ানো ডিফেন্সচেরা থ্রু পাস থেকে বাঁ পায়ের দারুণ শটে কুনহা নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপরেই ব্রাজিলের জন্য কিছুটা দুঃসংবাদ বয়ে আনে রাফিনিয়ার ইনজুরি। ৪০ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে, বদলি হিসেবে নামেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার রায়ান।
সতীর্থের চোটের দুসংবাদ নিয়ে বিরতির আগেই ব্যবধান ৩-০ করেন স্বয়ং ভিনিসিয়ুস। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের ৩ মিনিটে গোলরক্ষক জনি প্লাসিডের দুই পায়ের ভেতর দিয়ে তিনি বল পাঠিয়ে দেন জালে। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বজায় রাখে সেলেসাওরা। ৬৪ মিনিটে কুনহা ও লুকাস পাকেতাকে তুলে নিয়ে এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামান কোচ আনচেলত্তি।
৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা এনদ্রিক বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এরপর আর কোনো গোল না হলেও বড় জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা। স্বস্তির জয়ের পরেও ব্রাজিলের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হিসাব নিকাশে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার সুযোগ নেই। ব্রাজিল প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আরও কয়েকটি গোলের প্রত্যাশা ছিল ব্রাজিল সমর্থকদের।
এই অর্ধে ব্রাজিলের একটি গোল বাতিল হলেও হাইতি যথেষ্ট দাপট দেখিয়েছে। ব্রাজিলের গোলরক্ষক কমপক্ষে ২-৩ টি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন। একটি গোললাইন সেভও হয়েছে। মরক্কো ম্যাচের ড্র থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকের এই জয় ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের পরবর্তী ধাপের লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে নিয়ে গেল।







