নারায়ণগঞ্জ ।
,

‘সমাজে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে মসজিদের নেতৃত্ব নিতে চাচ্ছে রুহুল আমিন শিকদার’

ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের তক্কারমাঠ এলাকায় অবস্থিত বায়তুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মাঝে বিরোধ দেখা দিয়েছে| এই বিরোধের মাঝে সমালোচনার কাঠগড়ায় রয়েছেন থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার| তার অযাচিত হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তারের কারণে শান্তি বিনষ্টসহ মুসল্লিদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে|

সম্প্রতি মসজিদে কমিটি সংক্রান্ত এক সভায় কমিটির দায়িত্বশীল ও বিএনপি নেতা মন্টু মেম্বার তার বক্তব্যে বলেন, রুহুল আমিন শিকদার হলো ফতুল্লা ইউনিয়নের ভোটার| তার বাড়ি হলো ফতুল্লা ইউনিয়নে| সে ফতুল্লা ইউনিয়নের ভোটার| এই বায়তুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ হলো কুতুবপুর ইউনিয়নে| রুহুল আমিন শিকদার এই মসজিদের কোনো ডোনারও না এবং মুসল্লিও না| কিন্তু তিনি এখানে এসে জোরপুর্বক ভাবে ১২ জনের নাম ঘোষনা করে গেছে যে, এই মসজিদের এক ন¤^র উপদেষ্টা হলো ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ চৌধুরী, ২ ন¤^র উপদেষ্টা হলো শাহজাহান সাহেব, ৩ ন¤^র উপদেষ্টা হলো রুহুল আমিন শিকদার নিজে| বাকি নামগুলোও তিনি দিয়েছেন| আমার কাছে কাগজ আছে| আমার কথা হলো, আমাদের কমিটিতে ৪১ জন মানুষ রয়েছে| আমরা কাজ করেবো মসজিদের জন্য| তাই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাদের সবাইকে মিলে| সেক্ষেত্রে হয়তো দ্বিমত থাকবে| কিন্তু দেখতে হবে কয়জন আছে পক্ষে আর কয়জন আছে বিপক্ষে| সিদ্ধান্তের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠদের কথা যেটা হবে সেটাই তো আমরা মেনে নিব| কিন্তু আমাদের কোনো মিটিং নেই, আমাদের আলোচনা নেই|’

মন্টু মেম্বার বলেন, ‘এখানে অনেক জ্ঞ্যানি ও গুনি ব্যক্তিরা আছে, যারা ২০-৩০ হাজার টাকা করে মসজিদের জন্য দিয়ে থাকে| আমরাই মিনিমাম ৮ লাখ টাকার উপরে দিয়েছি| মসজিদের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি এবং করছি|’

তিনি বলেন, ‘রুহুল আমিন নিজে নিজেই উপদেষ্টা! অথচ তিনি এই ইউনিয়নের কিছু না| তিনি ফতুল্লা ইউনিয়নে বাস করেন| ফতুল্লা ইউনিয়নের ভোটার| তিনি এখানে এসে কেনো মাদবরি করবে!’

বিএনপি নেতা রিয়াদ চৌধুরী প্রসঙ্গে মন্টু মেম্বার বলেন, রিয়াদ চৌধুরীর যদি উপদেষ্টা হওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে তিনি তো আমাকে দলীয় ভাবে চিনে, বড় ভাই বলে, তাহলে আমাকে বলতো যে ভাই আপনাদের কমিটির ভালো চাই, তাই আমাকে একটু দাওয়াত দেন, আমি কথা বলবো| কিংবা আমাকে ফোন করে বলতে পারতো যে ভাই আপনারা কয়েক এসে যদি আমার এখানে চা খান আমি খুশি হবো| তখন যদি তার ইচ্ছে থাকতো, সে আমাদের কাছে প্রকাশ করতো| কিংবা আমরা তাকে বুঝাতে সক্ষম হোতাম যে, এই পবিত্র ঘরে আমি জবান দিয়েছি এখানে দলীয় কোনো প্রভাব থাকবে না| কিন্তু এই জিনিসগুলো না করে ঘোষনা দিল|’

তিনি বলেন, ‘রুহুল আমিন শিকদার, শাহ-আলম পাটোয়ারি, খোকন মাস্টার ও হুমায়ন আমাদের সমাজকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে| আমাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগাতে চাচ্ছে| এই দ্বন্দ্ব লাগিয়ে তারা মসজিদের নেতৃত্ব দিবে এবং তাদের মন মতো চলবে| এই জন্যই এগুলো করা হচ্ছে|’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >