২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা তারকাদের তালিকায় উপরের দিকে রয়েছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই তিন তারকার মধ্যে এমবাপ্পে আর মেসি ইতোমধ্যেই নিজেদের মিশন শুরু করে দিয়েছেন। স্ব স্ব ম্যাচে দুই তারকাই আলো ছড়িয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের দাপুটে জয়ের ম্যাচে একাই জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে, আজ ভোরে মাঠে নেমেই নিজের জাত চিনিয়েছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ৩-০ গোলের উড়ন্ত সূচনার ম্যাচে সবকটি গোলই এসেছে এলএম টেনের পা থেকে।
এরপর থেকেই প্রশ্নটা ভক্ত-অনুরাগীদের মনের মধ্যে ঘুরপাক খাছে যে, মেসি-এমবাপ্পে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই জ্বলে উঠেছেন; ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কী পারবেন? আজ রাতেই যে মাঠে নামছেন আল নাসরের এই পুর্তগিজ সুপারস্টার। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হবে সিআর সেভেনের পর্তুগাল।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই এমন দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পেরেছেন, যেমনটা পেরেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন পর্তুগালের এই মহাতারকা। তবে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তার আরেকটি বিশ্বকাপ অধ্যায়, যা হয়তো তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপও।
পর্তুগালের সামনে এবার বড় সুযোগ। শক্তিশালী মাঝমাঠ, অভিজ্ঞ রক্ষণভাগ এবং প্রতিভাবান আক্রমণভাগ নিয়ে দলটি শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তবে সব আলো এখনো রোনালদোর ওপরই। প্রশ্ন একটাই-তিনি কি এখনো পর্তুগালকে শিরোপার পথে টেনে নিতে পারবেন, নাকি তার উপস্থিতিই দলের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়াবে?
ইউরো ২০২৪-এ রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তাকে নিষ্প্রভ দেখা গিয়েছিল। আবার ২০২২ বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোতে তাকে বেঞ্চে বসিয়ে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ গোল করেছিল পর্তুগাল। এসব কারণে অনেকেই মনে করেন, আগের সেই রোনালদোকে আর দেখা যায় না।
তবে পর্তুগাল শিবিরে তার গুরুত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কোচ রবার্তো মার্তিনেজ জানিয়েছেন, এটি রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ হলেও তার প্রস্তুতি, আবেগ ও একাগ্রতা যেন প্রথম বিশ্বকাপ খেলা কোনো তরুণ ফুটবলারের মতো। মার্তিনেজ বলছিলেন, ‘সে আমাদের দলের জন্য অপরিহার্য। গোল করার পাশাপাশি অন্যদের জন্য জায়গা তৈরি করে দিতে পারে।’
সতীর্থদের কাছেও রোনালদো অনুপ্রেরণার নাম। মিডফিল্ডার মাতেউস নুনেস বলেছেন, রোনালদোর সঙ্গে খেলা তার জন্য গর্বের বিষয়। অন্যদিকে ব্রুনো ফার্নান্দেস জানিয়েছেন, ছোটবেলায় টেলিভিশনে যাকে দেখে বড় হয়েছেন, তার সঙ্গে একই দলে খেলা বিশেষ সম্মানের।
কঙ্গোর কোচ সেবাস্তিয়েন দেশাব্রেও রোনালদোর প্রশংসা করেছেন, ‘ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় তিনি। বিশেষ করে সেট পিসে এখনো ভয়ংকর।’







