ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার বাবুলের বিরুদ্ধে জাল দলিলের মাধ্যমে অন্যের জমি বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে| এতে ভুয়া দলিল সৃজন করে জমি বিক্রির নামে ২৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে চতুর এই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে| এই ঘটনা তুমুল আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে কুতুবপুরসহ ফতুল্লা তথা নারায়ণগঞ্জের সর্বত্রই| প্রতারণার আশ্রয় নেয়ায় অভিযুক্ত এই ইউপি সদস্যকে আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল|
আজ বুধবার সকালে কুতুবপুরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভায় ভুক্তভোগীরা বাবুল মেম্বারের এই কু-কীর্তি তুলে ধরেন| প্রতারণার এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বাবুল মেম্বারকে নিয়ে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় শুরু হয়| তাকে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করতে দেখা যায় নেটিজেনদের|
সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভা থেকে জানা যায়, কুতুবপুরের মুন্সিবাগ এলাকায় প্রায় ২০ কাঠা জমির মালিক আলাউদ্দিন আকন গং| সেখানে প্রজেক্ট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেন আলাউদ্দিন আকন গং| তবে বিশাল এই প্রকল্পের এজমালি রাস্তা ছিলো প্রয়োজনের তুলনায় সংকীর্ণ| যাতায়াতের জন্য ৮ ফিট রাস্তা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়|
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নির্মাণাধীন ওই প্রকল্পের জমির পাশর্^বর্তী ৩ শতাংশ একটি জমি রয়েছে| ইউপি সদস্য বাবুল ওই জমিটি তার নিজের বলে দাবি করে প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষ আলাউদ্দিন আকন গংয়ের কাছে তা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করেন| ওই জমিটি রাস্তার কাজে ব্যবহার করা যাবে বিধায় সম্প্রতি তা বাবুল মেম্বারের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকায় কিনে নেন আলাউদ্দিন আকন গং| এতেই বিপত্তিতে পরেন তারা|
কেননা, বাবুল মেম্বার ওই জমিটি তার বলে দাবি করলেও প্রকৃত পক্ষে এর সঠিক মালিক হলো মোতালেব নামে এক ব্যক্তি| যিনি আরও প্রায় ৩০ বছর পূর্বে ওই জমির পূর্বের মালিক জনৈক আলাউদ্দিনের কাছ থেকে সাফকবলা দলিল মূলে ক্রয় করেছেন| সম্প্রতি ওই ৩ শতাংশ জমির মালিক মোতালেব সেখানে তাদের স্থাপনা নির্মাণ কাজও সম্পন্ন করেন|
বিষয়টি জানতে পেরে বাবুল মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করেন প্রতারণার শিকার হওয়া আলাউদ্দিন আকন গং| তবে কোনো সদুত্তর বা জমি বুঝিয়ে দেয়া কিংবা আদায়কৃত অর্থ ফেরৎ দিচ্ছে না বাবুল মেম্বার।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুল মেম্বার জালিয়াতির বিষয়টি অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘এখানে ভুয়া দলিলের কোনো সাবজেক্ট না| সাবজেক্ট হলো আলাউদ্দিন সাহেব ৩ শতাংশ জমি কিনেছে সেন্টু ও শুভর কাছ থেকে| তাদের বাড়ি হলো কেরানীগঞ্জ| এটা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ছিলো| ২ বিঘা সম্পত্তির মধ্য থেকে সেন্টু ৩ শতাংশ জমি আলাউদ্দিন সাহেবের কাছে বিক্রি করেছে| আলাউদ্দিন ও তার দুই ছেলে সেন্টু এবং শুভ হলো জমির দাতা এবং গ্রহীতা হলো আলাউদ্দিন আকন গং| আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় ঘুরা ফেরা করি| ভালো-মন্দ সব কিছু জানি| এখানে ভেজাল বা ভুয়া দলিলের কোনো সাবজেক্ট না|
বাবুল মেম্বার এমনটা দাবি করলেও সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন আকন গংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘বাবুল মেম্বার ওই জমি তার বলে দাবি করেছে এবং জাল দলিল করে তা বিক্রি করা সহ বিক্রিত ২৪ লাখ টাকা বাবুল মেম্বার নিজ হাতে গ্রহণ করেছে|’








