জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা, অবিলম্বে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)-এর কাছে এই স্মারকলিপি জমা দেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।
স্মারকলিপি প্রদানের পর কমিশন ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এটি জাতির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার শপথ এবং জনগণের রক্তে লেখা ঐতিহাসিক দলিল।”
এর আগে সকাল ১১টার দিকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিলসহ নির্বাচন কমিশনের দিকে অগ্রসর হন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে রাষ্ট্র সংস্কার ও শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠনের পথে অগ্রসর হচ্ছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের আলোকে গঠিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে জনগণের আত্মত্যাগ ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে এতে আইনি ও স্থায়ী স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়, গণভোট ছাড়া জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি সম্ভব নয়। তাই আগামী নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনেরও দাবি জানানো হয়।
নেতারা আরও বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে অবিলম্বে গণভোটের ব্যবস্থা করতে হবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় সমান প্রতিযোগিতার (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চয়তা দিতে হবে।
স্মারকলিপিতে কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ, পেশিশক্তিমুক্ত ভোট ব্যবস্থা এবং উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR System) চালুর দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
নেতারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে এই দাবিগুলোর বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
এ সময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ ফয়সাল, মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর সেক্রেটারি মুর্শিদ সিদ্দিকী, দক্ষিণ সেক্রেটারি রাকিবুল ইসলাম, যুব মজলিস সভাপতি জাহিদুজ্জামান ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক আল আবিদ শাকিরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।







