নারায়ণগঞ্জ । শনিবার
৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ের চাপের জেরে মা-মেয়েকে হত্যা, মাটিচাপা দেয় পরকীয়া প্রেমিক

বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় পরকীয়া প্রেমিকাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার তিন বছরের শিশুকন্যাকেও হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিক মো. উজ্জ্বল খানের বিরুদ্ধে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছেন আটক উজ্জ্বল।

রোববার দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম।

আটক মো. উজ্জ্বল খান (৩৮) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের বকারটিলা খাসেরকোল গ্রামের মৃত শাহজাহান খানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, নিহত জাহানারা বেগম (৩০) ও উজ্জ্বল রাজধানীর আমিনবাজার এলাকায় একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা ওই সম্পর্কের এক পর্যায়ে জাহানারা বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

গত ৪ মে উজ্জ্বল মোবাইল ফোনে জাহানারাকে জামতলা বাজারে আসতে বলেন। সেদিন বিকেলে আত্মীয়ের বাড়িতে মিলাদ মাহফিল শেষে জাহানারা তার তিন বছরের মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে সেখানে যান। পরে উজ্জ্বল তাদের ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়।

সেখানে বিয়ে ও সম্পর্ক নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উজ্জ্বল জাহানারার বুকে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ সময় শিশু সামিয়া কান্না শুরু করলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে উজ্জ্বল তার বাড়ি থেকে কোদাল এনে পুকুরপাড়ে গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটিচাপা দেয় এবং ওপর দিয়ে কলাগাছ লাগিয়ে রাখে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত জাহানারার বাবা মো. লালন মোল্লা কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আবুল বাসার মোল্লা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৬ মে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকা থেকে উজ্জ্বলকে আটক করেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালও জব্দ করা হয়েছে।

নিহত জাহানারা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেঁওতা ইউনিয়নের নারান তেঁওতা গ্রামের বাসিন্দা এবং রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী। নিহত সামিয়া তাদের একমাত্র সন্তান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জাহানারার বাবা লালন মোল্লা তার মেয়ে ও নাতনির হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ মে ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় থেকে মাটিচাপা অবস্থায় জাহানারা ও তার মেয়ে সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >