নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সংঘটিত বহুল আলোচিত সিরিজ ডাকাতির ঘটনার প্রায় চার বছর পর সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের আরও এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করেছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানায়, পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদের দিকনির্দেশনায় মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসআই (নিঃ) মোঃ মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে রূপগঞ্জের বরপা উত্তরপাড়া বালুর মাঠ এলাকা থেকে মোঃ আজিজুল হক ভূইয়া (৪২) ওরফে আজিজুল ওরফে আজুল হককে গ্রেফতার করে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে রূপগঞ্জের কাঞ্চন বাড়ৈইপাড়া এলাকায় ফারুক হাসান, খায়রুল বাশার ও তমিজ উদ্দিনের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ১৫-২০ জনের একটি ডাকাত দল সশস্ত্র হামলা চালায়। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে এবং বাধা দিতে গেলে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে। ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট হয়।
এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল একটি মামলা (নং-৩৮) দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ৬ মার্চ মামলাটির তদন্তভার পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার কাছে ন্যস্ত হয়।
তদন্ত চলাকালে গ্রেফতারকৃত আসামি আজিজুল হককে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সে ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। পরবর্তীতে ২ মে ২০২৬ তাকে আদালতে সোপর্দ করলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
পিবিআই আরও জানায়, এ মামলায় এর আগে হোসেন মিয়া (৩৫) নামের আরও এক ডাকাতকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হলে মামলার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ আরও জানান, অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।







