নারায়ণগঞ্জের একসময়ের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতায় দিন কাটাচ্ছেন। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে, রিমান্ড ও জেল হাজতের জীবন সব মিলিয়ে তার বর্তমান অবস্থা যেন অতীতের প্রভাব-প্রতিপত্তির একেবারেই বিপরীত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানির জন্য হাজির করা হলে গাজীকে মলিন ও ক্লান্ত দেখায়।
আদালতে হাজির করা হলে ধীর পায়ে প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে হেঁটে যেতে দেখা যায় তাকে। পরনে ছিল ট্রাউজার, পুরনো একটি শার্ট এবং তার ওপর পুলিশের বুলেটপ্রুফ ভেস্ট। চোখেমুখে ছিল ক্লান্তির ছাপ। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী। তবে নির্বাচনের পরপরই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে জমি দখল, দখলদারিত্ব এবং প্রভাব বিস্তার ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর তার প্রভাব আরও বাড়ে। ওই সময় রূপগঞ্জে একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে গাজীগঞ্জ হিসেবে উপজেলাটি তৈরি হয় এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে নিজস্ব অনুসারীদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডিতেও গাজী পরিবারের প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। রূপগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল-কলেজসহ সরকারি স্থাপনায় তার নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ঘটনাও আলোচিত ছিল।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং কর্মসূচি ভণ্ডুল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই তার অনুসারীদের ভয়ে আতঙ্কে থাকতেন বলে দাবি করেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ও রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার অভিযোগ ওঠে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে একই বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গাজী আত্মগোপনে চলে যান। অবশেষে ২৫ আগস্ট ঢাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বর্তমানে একাধিক মামলায় অভিযুক্ত এই সাবেক মন্ত্রীকে নিয়মিত আদালতে হাজির করা হচ্ছে। যে মানুষটি একসময় এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, এখন তাকে আদালতের কাঠগড়ায় নিরুপায় অবস্থায় দেখা যাচ্ছে এমন দৃশ্যই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে স্থানীয় মহলে।




