নারায়ণগঞ্জ । সোমবার
৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ,
২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এমপি হলে জলাবদ্ধতার অবসানই হবে আমার প্রথম কাজঃ শাহ আলম

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলম বলেছেন,”নির্বাচিত হলে আমার প্রথম অগ্রাধিকার হবে এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন করা,পাশাপাশি চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত সমাজ ব্যাবস্থা গড়ে তোলা।আমাদের এলাকার মানুষ বছরের পর বছর জলাবদ্ধতায় ভুগছে। বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট, স্কুল, এমনকি ঘরবাড়িও পানিতে তলিয়ে যায়। আমি যদি জনগণের ভোটে এমপি হতে পারি, তবে জলাবদ্ধতার অবসানই হবে আমার প্রথম কাজ।”

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকালে ফতুল্লায় কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুতি মূলক আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহ আলম আরও বলেন, আমরা আমাদের প্রিয়নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের দিক নির্দেশনায় ১৬ বছর রাজপথে থেকে আন্দোলন করেছি। গুম, খুন, হত্যা মামলাসহ যতপ্রকার নির্যাতন ছিল সবটুকু স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট হাসিনা করেছে। আমরা তারপরেও সেগুলোকে ভয় করি নাই। তাদের অত্যাচার, নির্যাতনকে উপেক্ষা করে আমরা দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে আন্দোলন করেছি এবং আমি সবসময়ই আমার অধীনস্থ নেতা কর্মীকে আগলে রেখেছি। ৫ই আগষ্ট স্বৈরাচারের পতন হয়েছে,১৬ বছরের বিএনপির আন্দোলনের ফসল এবং ছাত্র জনতা ও দেশের সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা পালিয়ে গেছে। আমি প্রচার বিমুখ লোক,আমি নিজেকে জাহির করি না।আড়ালে আবডালে থেকে মানুষের কল্যান সাধনে কাজ করে যাই।আগামীতেও আপনাদের কল্যানে কাজ করার লক্ষ্যে আপনারা আমার পাশে থাকবেন।

তিনি আরো বলেন, চাঁদাবাজ,মাদক ব্যাবসায়ী,ভুমিদস্যুতা যারা করে তারা কেউ আমার লোক নয়।আমি প্রতিনিয়ত তাদেরকে প্রতিহত করে সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।আমি জনগণের জন্য উন্মুক্ত আমার কাছে আসতে হলে কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন নেই,আপনাদের যেকোনো সমস্যায় আমি সবসময় আপনাদের পাশে দাড়াতে প্রস্তুত।২০০৮ সালে জঘন্য নির্বাচন হয়েছে এবং জিতে গিয়েও হেরে যেতে হয়েছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার প্রহসনের নির্বাচনের কারনে।বিগত বছরে ফ্যাসিস্ট হাসিনা প্রহসনের নির্বাচন দিয়েছে এবং গন মানুষের ভোটাধীকার কেড়ে নিয়ে সত্যিকারের জয়ী ব্যাক্তিকে পরাজিত করেছে।মিথ্যা পরাজয়ের পরেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন,” তোমার মতো ৩০০ শাহ আলম থাকলে আমার কোনো চিন্তা নাই”।

মোহাম্মদ শাহ আলম আরো যুক্ত করেন,২০০৮ এবং ২০১৮ তে সব মিলিয়ে ২৪ টি মামলা খেয়েছি। আমি আমার মিল ফ্যাক্টরিতে যেতে পারি নাই।এত এত হামলা মামলার পরেও আমি আমার কোনো নেতাকর্মীকে ছেড়ে যাই নাই।আমার দিক থেকে যতটুকু সম্ভব সকল নেতা কর্মীকে অর্থ/আইনী সহযোগিতা দিয়ে গেছি।আমি আপনাদের সাথে ছিলাম,আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ।

সবশেষে তিনি বলেন,এলাকার উন্নয়ন শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, কার্যকর পরিকল্পনা ও সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্ভব। অতীতে বিভিন্ন সময়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসররা উন্নয়ন প্রকল্পের আশ্বাস দিয়েও তা বাস্তবে রুপ দেয় নাই। এবার যদি জনগণ আমাকে সুযোগ দেয়, আমি নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের ৭ টি ইউনিয়নের জনসাধারণের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করে যাব।

উক্ত মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন,নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লা ,ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক আহবায়ক জনাব রোজেল,ফতুল্লা থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আরাফাত আলম জিতু,কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জনাব এম আকবর,সাবেক সাধারন সম্পাদক তাহের মোল্লা, ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার রঞ্জু,নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মন্টু মেম্বার,৮ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সোহেল,বিএনপি নেতা আমিরুল ইসলাম,সালাউদ্দিন,বোরহানুদ্দীন ব্যাপারী,বারী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >