ভগবান শ্রীরাম চন্দ্রকে অবমাননার প্রতিবাদে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে নগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
শনিবার ২০জুন বেলা ১১ টায় বঙ্গবন্ধু সড়কের অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের ছবি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন আপত্তিকর পোস্ট প্রচার করে তারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে গভীর কষ্ট ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। যুগ যুগ ধরে এ দেশে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশে বসবাস করে আসছে। তাই কোনো অপশক্তিকে এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। যারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে সামাজিক বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় সবসময় দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে এবং আমরা বিশ্বাস করি, সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি স্মরণ করেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। এ সময় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং নিরাপত্তা ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের নেতারাও সম্প্রীতি রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন।
শিপন সরকার বলেন, আমরা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দুর্গাপূজাসহ সকল ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করতে চাই। কিছু উসকানিদাতা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কারণে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। তাই ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকে অবমাননাকারী, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো ব্যক্তি ও রামের প্রতিমা ভাঙার হুমকিদাতাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি দেশের সকল ধর্মাবলম্বী মানুষকে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।
পূজা উদযাপন পরিষদ, সাংবাদিক শংকর কুমার দে, শিখন সরকার শিপন, জেলার সহসভাপতি তিলোত্তমা দাস, মহানগর সভাপতি শ্রী বিষ্ণুপদ সাহা। সাধারণ সম্পাদক সুশিল দাস। সহসভাপতি সাংবাদিক উত্তম সাহা। সহসভাপতি শ্রী হিমাদ্রি সাহা
যুগ্ম সম্পাদক শ্রী শংকর রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী কৃষ্ণা আচার্য জেলার প্রচার সম্পাদক শ্রী তপন সাধু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন রুদ্র ,মহানগর পূজা পরিষদের উপদেষ্টা শ্রী তপন ঘোষ, সোনারগাঁও উপজেলার সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুমিত রায়, বন্দর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শ্রী শ্যামল বিশ্বাস। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সভাপতি শ্রী শিশির ঘোষ অমর ,ফতুল্লা থানা সভাপতি শ্রী প্রদীপ মন্ডল। সাধারণ সম্পাদক সিবু দাস। যুগ্ম সম্পাদক বীরেন দাস। জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রনব পাল। সংহতি প্রকাশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শ্রী প্রদীপ দাস নেতৃত্ব ঐক্য পরিষদের মহানগর সাধারণ সম্পাদক শ্রী অরুন বিশ্বাস। ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের তুলসী ঘোষ, গীতা পরিষদের সভাপতি প্রদীপ সরকারের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি গৌরাঙ্গ সাহা, সাধারণ সম্পাদক শম্ভুনাথ দে সহ ছাত্র মহাজোটের সুজন, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি টনি মল্লিকের নেতৃত্বে অনেক নেতৃবৃন্দ। হরিজন ঐক্য পরিষদের প্রতাব সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড,ইউনিয়ন, অনুকূল চন্দ্র ঠাকুরের ভক্তবৃন্দ, ময়ামায়া সেবা আশ্রম সহ বিভিন্ন মন্দিরের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।





