প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাঁদপুর সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে দলীয় নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে ও শুভেচ্ছা জানাতে সকাল থেকেই মহাসড়কে অবস্থান নেন তাঁরা।
শনিবার, ১৬ মে সকাল সাড়ে ৮টার পর সড়কপথে তিনি গুলশানের বাসা থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। এ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের দশতলা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেছেন, “হাজার হাজার নেতা-কর্মী এখানে সমবেত হয়েছেন এটি হলো তারেক রহমানের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা এবং নারায়ণগঞ্জের মাটি বিএনপির ঘাঁটি, সেই বিষয়টিই এর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। আরেকটি হলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, তিনি যে পরিবর্তনের রাজনীতি ও দেশ নির্মাণের রাজনীতি ঘোষণা দিয়েছেন, সেই রাজনীতির প্রতি মানুষের যে শ্রদ্ধা এবং সমর্থন, সেটি জানানোর জন্যই আজ এই উপস্থিতি।”
শনিবার (১৬ মে) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুরের যাত্রাপথে শুভেচ্ছা জানাতে অপেক্ষার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
মামুন মাহমুদ আরো বলেন, “তিনি যে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন সারা দেশে ঘুরে ঘুরে, তিনি খাল খনন করছেন আজকেও তিনি খাল খনন করতে চাঁদপুর যাচ্ছেন। এ ছাড়াও অন্যান্য কর্মসূচি রয়েছে। প্রত্যেকটা কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জের মানুষের সমর্থন রয়েছে। আর সেই কারণেই তারা শুধু গত ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিয়ে আমাদের দলের প্রার্থীকে জয়যুক্তই করেনি, এখন পর্যন্ত অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছেন। আর সেই সমর্থনের কারণেই আজ এই প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় যাবত সকাল ৬টা-৭টা থেকে মানুষ জড়ো হচ্ছে এবং আরও মানুষ আসবে।
তিনি আরও বলেন, “তিনি বাসা থেকে রওনা হয়েছেন। হয়তো আর কিছুক্ষণ পরেই তিনি আমাদের এই নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে চাঁদপুরে যাবেন। সুতরাং আমরা তাকে জাস্ট এক নজর দেখব এবং তার প্রতি আমাদের সমর্থন জানাব যে আপনার সব কর্মসূচির প্রতি নারায়ণগঞ্জের মানুষের শ্রদ্ধা ও সমর্থন রয়েছে।”
তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো কতটা শক্তিশালী, সেটিও তিনি দেখে যাবেন। এখানে মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ অন্যান্য সব সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এসেছেন। সুতরাং এটি প্রমাণিত হবে যে, নারায়ণগঞ্জের মাটি বিএনপির ঘাঁটি। যতবার বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচন হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই বিএনপি জয়লাভ করেছে। সুতরাং নারায়ণগঞ্জকে নিয়ে সারা দেশের মানুষের যতই উৎকণ্ঠা থাকুক, আমরা নারায়ণগঞ্জের মানুষ সকল অত্যাচার-নিপীড়ন সহ্য করেই বিএনপির পতাকাটা ধরে রেখেছি।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গভীরভাবে ভালোবাসে। তার দাবি, তারেক রহমানের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে বিএনপি ও তাকে পছন্দ করে এবং তার সাফল্য কামনা করে।
তিনি আরও বলেন, আজ মহানগরের উপর দিয়ে দলের শীর্ষ নেতা যাত্রা করবেন। তাকে শুভেচ্ছা জানাতে নেতাকর্মীদের নিয়ে তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে জনগণের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সকল নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমানের সকল কর্মসূচি সর্বশক্তি দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে এবং জনগণের মুখে হাসি ফোটানো হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসিকুল ইসলাম রাজিব বলেন, এখানে উপস্থিত হওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না। নেতা-কর্মীদের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা থেকেই আমরা জড়ো হয়েছি। মূলত প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতেই এই অপেক্ষা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, সদস্য আনোয়ার প্রধান, মাসুদ রানাসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।








