নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন মামলার আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেন, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নৃশংস, যা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
তিনি জানান, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল প্রকাশ্যে রাজপথ থেকে র্যাব সদস্যরা প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের পেছনের একটি গাড়িতে থাকা চন্দন সরকার পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেন। এই কারণে তাকেও তার গাড়িচালকসহ অপহরণ করা হয়।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, অপহরণের পর ভিকটিমদের চোখ-মুখ বেঁধে একটি গাড়িতে তোলা হয়। তাদের মাথায় পলিথিন বেঁধে রাখা হয়, যার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। এরপরও হত্যাকারীরা লাশগুলো নিয়ে দিনের পর দিন ঘুরে বেড়ায়, যেন গোপনে তা গুম করা যায়।
তিনি আরও জানান, রাতের দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন একটি জেটিতে লাশগুলো ট্রলারে তোলা হয়। পরে প্রত্যেকের শরীরে ইট বেঁধে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর মোহনায় ফেলে দেওয়া হয়, যাতে লাশগুলো আর খুঁজে পাওয়া না যায়।
ঘটনার পরপরই আইনজীবী ও স্বজনরা ব্যাপক চেষ্টা চালান বলে উল্লেখ করেন তিনি। আমরা যখন জানতে পারি চন্দন সরকারকে অপহরণ করা হয়েছে, তখন আইনজীবীদের নিয়ে র্যাব ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যাই। টানা তিন দিন কেউ ঘুমাতে পারেনি। পরিবারগুলোও দুশ্চিন্তায় ছিল। বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল, যেন তাদের জীবিত ফিরিয়ে দেওয়া হয়, বলেন তিনি। তবে সব আশা ভেঙে যায় ৩০ এপ্রিল, যখন নদীতে ভেসে ওঠে মরদেহগুলো। এই দৃশ্য নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের মানুষকে স্তম্ভিত করে দেয়। ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। শহরে ডাকা হয় হরতাল, বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা ৫৮ দিন আদালত বর্জন করেছি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজনৈতিক নেতারাও এসে আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন। এরপরও যখন কোনো অগ্রগতি হচ্ছিল না, তখন আমরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করি।
তিনি বলেন, এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে একটি বড় লড়াইয়ের সূচনা ছিল, যা দেশের মানুষকে দীর্ঘদিন নাড়া দিয়ে গেছে।








