নারায়ণগঞ্জ কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ রাহাত একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি পঙ্গুত্বের কারণে পায়ে হেঁটে কলেজে যেতে পারে না। তিনি জীবন সংগ্রামে প্রতিনিয়ত কঠিন লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে আজ কলেজের দ্বার প্রান্তে এসেছেন।
মোঃ রাহাত ফতুল্লা পোস্ট অফিস সরদার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা একজন অসহায় দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ। সীমিত আয়ের কারণে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাদের জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অভাবের তাড়নায় পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারটিকে।
নিয়মিত কলেজে যেতে না পারায় বাড়িতে বসেই অধিকাংশ সময় লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্থ কষ্টে রাহাত পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ দিকে নারায়ণগঞ্জে জেলা পরিষদের মানবিক প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের কাছে আবেদন নিয়ে হাজির হন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মোঃ রাহাত। প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যেও প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্যসহকারে রাহাত ও তার পরিবারের দুর্দশার কথা শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সহায়তা স্বরূপ কলেজে যাতায়াতের জন্য একটি ইভি মোটরসাইকেল উপহার দেন।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে—এটা মেনে নেওয়া কঠিন।” তিনি আরও বলেন, “তার আরও কিছু আবেদন থাকলে, সেগুলোও আমরা বিবেচনা করে দেখবো। এই আবেদনগুলো পর্যায়ক্রমে আমরা দেওয়ার চেষ্টা করবো।
জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা পেয়ে উচ্ছ্বসিত মোঃ রাহাত । তবে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “আগের জেলা প্রশাসকের সময়েও আমি আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু তখন কোনো সহায়তা পাইনি। বর্তমান জেলা প্রশাসক আবেদন পেয়েই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমার কলেজে যাতায়াতের জন্য তিনি একটি মোটরসাইকেল উপহার দিয়েছেন। তিনি সত্যিই একজন মানবিক প্রশাসক ও রাজনীতিবিদ।
তথ্যসূত্রঃ যায়যায়দিন



