২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও প্রকৃত মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে ‘বিয়াম ফাউন্ডেশন’-এর তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জবাবদিহিমূলক এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিয়াম ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমলাতন্ত্রের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, জনপ্রশাসনকে আরও বেশি জনমুখী ও সেবামূলক হতে হবে। জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে নিয়মিত এবং উন্নত প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী হয়, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিতে ভূমিকা রাখে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিয়াম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার সবসময়ই একটি পেশাদার ও দক্ষ আমলাতন্ত্র গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিল। দেশ ও জনগণের স্বার্থে এই অগ্রযাত্রা আগামী দিনেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নবনির্মিত ভবনটি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে আরও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত স্থাপনার নকশা পর্যবেক্ষণ করেন এবং বিয়াম ফাউন্ডেশনের সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়ে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, দেশের জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এই সংস্থাটি দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে যাচ্ছে, যার আধুনিকায়নে বর্তমান সরকার নতুন এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে।



