নারায়ণগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সব ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। সকাল থেকেই নির্বাচন অফিস প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর কিন্তু শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ; প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয় ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসের সামনে ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। পর্যায়ক্রমে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালি ও অন্যান্য সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় সেগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে প্রতিটি গাড়ি কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মোট ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্রে এসব সরঞ্জাম বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। ৬০২টি ভেন্যুতে স্থাপিত এসব কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন জেলার ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৭০ জন ভোটার। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নেওয়া হয়েছে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে দুটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় ১০ থেকে ১২টি অতিরিক্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স টহলে থাকবে।
চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারির অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে মাঠে থাকবেন ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ এখন নির্বাচনমুখী পরিবেশে টানটান উত্তেজনায় প্রস্তুত। প্রশাসনের দাবি—নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই; ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই এখন সবার প্রধান লক্ষ্য।







