নারায়ণগঞ্জের মেট্রোহল থেকে সাভারের চান্দুরা রুটে চলাচলকারী ‘মৌমিতো পরিবহন’ থেকে প্রতিমাসে ৯০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ঢাকা থেকে চাষাঢ়ায় আসা মৌমিতা পরিবহনের বাসগুলোকে মেট্রোহলে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ওনার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এড. টিপু।
মৌমিতা পরিবহন কোম্পানির নারায়ণগঞ্জের পরিচালক রফিজল ওরফে কালা গণমাধ্যমের কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত বছরের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই প্রতি মাসে নিয়ম করে ৯০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে আসছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তবে গত তিন মাস ধরে পরিবহনের সাধারণ শ্রমিক ও মালিকপক্ষ এই চাঁদা দিতে পরিষ্কার অস্বীকার করে।
চাঁদা দেওয়া বন্ধ করার জেরে আজ (শনিবার) ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মৌমিতা পরিবহনের বাসগুলো নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় পৌঁছালে সেগুলোকে মেট্রোহলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
পরিচালক কালার অভিযোগ, টিপুর নির্দেশে ওনার লোক বলে পরিচিত ডেভিডের ভাই তপন, হিরা সরদার এবং ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বরকতসহ একদল অনুসারী চাষাড়ায় অবস্থান নিয়ে বাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে চাষাঢ়া মোড় এলাকায় তীব্র যানজট ও যাত্রী ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ এবং পরিবহন পরিচালক কালা একে অপরের সাথে যোগসাজশ করে আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে এই নোংরা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি কোনো টাকা নিইনি এবং এই চাঁদাবাজির সাথে আমার দূরতম কোনো সম্পর্কও নেই। আপনারা প্রয়োজনে এই কোম্পানির জিএম-এর সাথে কথা বলে সত্যতা যাচাই করতে পারেন।”
টিপুর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মৌমিতা পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদাবাজির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে সরাসরি টিপুর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “আমাদের মালিকপক্ষ থেকে প্রতিদিন সাড়ে ৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়—এ কথা সত্য। নারায়ণগঞ্জের রুটটি কালা নিজেই মেইনটেইন করে। তাই কালাই ভালো বলতে পারবে কোন জায়গায়, কাকে কত টাকা দিতে হয়। কারা এই টাকা নেয়, তা সুনির্দিষ্ট করে আমার বলা সম্ভব নয়।”
পরিবহন সংশ্লিষ্ট সাধারণ শ্রমিক ও মালিকদের দাবি, নতুন বাংলাদেশে যেখানে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট মুক্ত পরিবহনের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা চরম অনভিপ্রেত। তারা এই রুটে নির্বিঘ্নে গাড়ি চলাচল নিশ্চিত করতে এবং চাঁদাবাজদের রুখতে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





