জ্বালানির দাম কিংবা দূরত্ব না বাড়লেও বাড়ানো হয়েছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের বাস ভাড়া। এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাজনৈতিক, সামাজিক, নাগরিক ও পেশাজাবী সংগঠনের নেতারা। বিশেষ করে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফত্ল্লুা থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তার অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় পরিবহন খাতে নতুন করে ‘চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বাসভাড়া বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘এই বাস ভাড়া বৃদ্ধির সাথে নারায়ণগঞ্জের গণমানুষের কোনো সমর্থন নেই। আমিও এই ভাড়া বৃদ্ধিকে সমর্থন করি না। এখানে চাঁদাবাজ মহলের কারসাজি রয়েছে। সেই পরিবহন চাঁদবাজ মহল কারা সেটা প্রকাশ করতে হবে।’
রুহুল আমিন বলেন, ‘বাস ভাড়া বাড়ানো জনগণের সঙ্গে অবিচার। এতে শ্রমজীবী, দিনমজুর, শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে। বাস ভাড়া বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষকে নিত্যদিন অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে। ইতোমধ্যে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা, এর সঙ্গে ভাড়া বৃদ্ধির বোঝা তাদের জীবনে নতুন সংকট ডেকে আনবে। পরিবহন মালিকেরা সবসময় সুযোগ পেলেই ভাড়া বাড়ায়, কিন্তু সেবার মান বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেয় না। রাস্তায় ভাঙাচোরা গাড়ি, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, দুর্ঘটনা ও হয়রানি নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও বারবার সাধারণ মানুষকেই ভাড়া বৃদ্ধির শিকার হতে হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ভাড়া ৫০ টাকা থেকে ৫ টাকা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করা হয়েছে। সেই সাথে সপ্তাহের ৭ দিন শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া নেয়া হবে। বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এর আগে গত নভেম্বরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়া ৪৫ টাকা করার দাবীতে আন্দোলন করে যাত্রী অধিকার সংরক্ষন ফোরাম। পরে ৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল।








