নারায়ণগঞ্জ ।
,

বন্দরে সমালোচনার তুঙ্গে সেই পিতা-পুত্র!

স্টাফ রিপোর্টার : এ যেন ‘বাশের চেয়েও কঞ্চি বড়’ প্রবাদের এক বাস্তবিক দৃষ্টান্ত! বলা হচ্ছে বন্দরের আওয়ামী লীগ নেতা আমীরুল ইসলাম এবং তার পুত্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আরিফুল ইসলামের কথা। বিতর্কের দিক থেকে পিতাকেও যেন ছাড়িয়ে যাচ্ছেন পুত্র আরিফ। তরুণ প্রজন্ম লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদধারী এই নেতা নিজেকে ইদানিং সাংবাদিক হিসেবেও পরিচয় দিয়ে বেড়ান বটে! তবে তার বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক সেবনের অভিযোগও।


আওয়ামী লীগের পতনের পর গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও বিতর্কিত এই পিতা-পুত্র এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। সেই সাথে শুরু করেছেন প্রতিপক্ষ ঘায়েলের মিশন।


নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নাজির কামরুল ইসলাম ও তার পরিবারকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কথিত একটি ফেসবুক পেইজে ভিডিও কন্টেন্ট তৈরী করে সেখানে তাদের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়।


তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, উল্লেখিত জমি সরকারের ‘ক’ তফসিল ভুক্ত সম্পদ। সেই জমি ভোগ দখলে আছে আমীরুল ইসলাম ও তার ছেলে আরিফ।


এদিকে, ভিডিওতে নাজির কামরুল ইসলামকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বলে প্রচার চালানো হলেও কার্যত আরিফ ও তার পিতা আমীরুল ইসলাম দুজনই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।


জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যাসহ একাধিক মামলা কাঁধে নিয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। এমনকি আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার নানা কসরত চালিয়ে যাচ্ছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বন্দরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিএম স্কুল এন্ড কলেজের কোটি কোটি টাকা লোপাট ও দূর্নীতির অভিযোগ ইতিপূর্বে প্রমাণিত হয়েছিল। ভূয়া দলিল ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিজ নামে মালিকানা জাহির করে ঐতিহ্যবাহী বিএম স্কুল এন্ড কলেজের কাছে প্রায় ২৩ শতাংশ জমি বিক্রি করেছিল আমিরুল ইসলাম। তিনি বিক্রয়কৃত জমির প্রকৃত মালিক না হয়েও জালিয়াতি মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছিল কোটি টাকা। যা তৎকালিন সময়ে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছিল। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকাগুলোতে সেই দূর্নীতির ফিরিস্তি উঠে এসেছিল ফলাও করে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। ভূমি অফিস ও বন্দর থানা পুলিশের তদন্তে আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলামের জাল-জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস ও থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে। তৎকালিন এমপি সেলিম ওসমানের কঠোর আল্টিমেটাম ও তদন্ত কমিটির হস্তক্ষেপে ৪ দিনের মাথায় আত্মসাৎকৃত ওই জমির মূল্যের কোটি টাকার চেক ফিরিয়ে দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল।


আওয়ামী লীগের এই অসাধু পক্ষটি এবার নাজির কামরুল ইসলামকে ঘায়েল করতে তৎপর হয়ে উঠেছে।


এই বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সরকারের একজন ক্ষুদ্র কর্মচারী হিসেবে এটুকু বলতে চাই যে, আমি আইনের প্রতি শতভাগ শ্রদ্ধাশীল। আইনি প্রক্রিয়াকেই আমি সম্মান করি এবং নাগরিক হিসেবে আস্থা খুঁজে পাই। আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমি এসবে মোটেও বিচলিত নই। কারণ আমি জানি যে, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র যতই বড় হোক না কেন, দিন শেষে সত্যেরই জয় হয়ে থাকে। আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে যেই বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা কোনো ভাবেই সঠিক নয়।’


উল্লেখ্য, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও তরুণ লীগ নেতা আরিফের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বেশ কয়েকটি মামলার তথ্য-প্রমাণ হাতে এসেছে। এখনো পর্যন্ত হাতে আসা মামলাগুলোর নথিপত্র অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্ম লীগ নেতা আরিফের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় ধারা ১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ ধারায় মামলা রয়েছে। যার এফআইআর নং-৫৪/১৭৮, তারিখ- ২৪/১০/২০১৮ইং। এই মামলায় এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামী হলেন আরিফ।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বন্দর থানায় ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৬/৩৭৯/৫০৬ ধারায় আরও একটি মামলার তথ্য-প্রমাণ হাতে এসেছে। যার এফআইআর নং-১৩, তারিখ- ১০/০৩/২০১০ইং। এ মামলাতেও আরিফ এজাহারভুক্ত আসামী।


অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনাতেও আরিফের বিরুদ্ধে মামলার নথিপত্র পাওয়া গেছে।


এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানায় ১১৪/১৪৭/১৪৮/১০৯/৩০২/৩৪ ধারার একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী হলো এই আরিফ। মামলার এফআইআর নং-৪৩, তারিখ ১৫/১১/২০২৫, এবং জিআর মামলা নং-১০২৩, তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২৫।


সূত্রগুলো বলছে, এসকল নথিপত্রের বাহিরেও আরিফ ও তার পিতা আওয়ামী লীগ নেতা আমীরের বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। একই সাথে জাল-জালিয়াতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় ইতিপূর্বে দায়ের করা হয়েছে একাধিক অভিযোগও।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >