পুলিশের উপর হামলা চালানো ইসদাইরের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী রাজ্জাক ও তার বাহিনীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। তবে পলাতক থেকেও পুলিশের উপর প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে উঠেছে রাজ্জাক বাহিনী। এবার নতুন ষড়যন্ত্রের ছক কষেছে এই মাস্টার মাইন্ড। ভিন্ন দিকে দৃষ্টি ঘোরাতে গভীর মিশনে নেমেছে সে।
সেই লক্ষ্যে তার সহযোগী ও একই সিন্ডিকেটের মাদক ব্যবসায়ী আয়েশাকে ব্যবহার করে একটি ফোন কল রেকর্ড ছড়ানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ওই ফোন কল রেকর্ডে কৌশলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রয়াশ চালানো হয়েছে।
উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ফতুল্লা থানার চৌকশ পুলিশ অফিসার এসআই নন্দন ও এসআই রফিককে নিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের মিথ্যাচার করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে সূত্র।

কল রেকর্ডটিতে ইচ্ছেকৃত ভাবে মাদক ব্যবসায়ী আয়েশাকে এসআই নন্দন ও এসআই রফিকের কথা জিজ্ঞেস করে রাজ্জাক। প্রতি-উত্তরে মাদক ব্যবসায়ী আয়েশাকে বলতে শোনা যায়, সে কিছুদিন আগে এসআই নন্দন ও এসআই রফিককে ৬ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছে। তাও আবার একবারই নয়, এমনটা ঘটেছে বারংবার!
এই বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই রফিক ও এসআই নন্দন বলেন, ‘এটা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাকের পরিকল্পিত কৌশল। মূলত, গত ১৫ই আগস্ট আমরা ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ রাজ্জাক ও ইসদাইরের অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাই। ওই অভিযানে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরা হলে রাজ্জাক ও ছেলে জসিম সহ অন্যান্য মাদক সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর হামলা করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ে। এতে আমরা আহত হই। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে রাজ্জাকের ছেলে জসিম গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশের প্রতিরোধে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় জসিম ও মোহনকে পিস্তল এবং গুলি সহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। আমাদের অভিযান চলমান আছে। কিন্তু এতে করে রাজ্জাক আরো ক্ষিপ্ত হয় এবং পলাতক থেকেও পুলিশকে বিতর্কিত করার মিশনে নামে। তারই অংশ হিসেবে তার সহযোগি মাদক ব্যবসায়ী আয়েশাকে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে দুজনে মিলে ওই কল রেকর্ড করে এবং সেখানে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হয়।’
জানা গেছে, একসময়ে ওসমান পরিবারের অনুগত সন্ত্রাসীদের শাসন চললেও বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল তথা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার ছায়া পড়েছে ইসদাইর জুড়ে। ওই নেতার ছায়া পেয়েই যেন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইসদাইরের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো।
এর মধ্যে অন্যতম সন্ত্রাসী রাজ্জাক ও তার পুত্রদের অস্ত্রধারী বাহিনীটি। ইসদাইরের মাদক ও অন্যান্য অপরাধ সেক্টরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে ইতিমধ্যেই সিরিয়াল কিলিং চালিয়েছে রাজ্জাক বাহিনী। শামীম হত্যা থেকে শুরু করে একের পর এক আলোচিত খুনের নেপথ্য নায়ক দুর্ধর্ষ রাজ্জাক।
জানা গেছে, রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ফতুল্লাসহ বিভিন্ন থানায় ২টি হত্যা, একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, একাধিক গুম, অপহরণ, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ মোট ১২টি মামলা রয়েছে।
সবশেষ চলতি বছরের ২ এপ্রিল ইসদাইর এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫৩ রাউন্ড তাজা গুলিসহ রাজ্জাক ও তাঁর ছোট ছেলে ওয়াসিমকে (২২) গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
এছাড়া সম্প্রতি গুলিবিদ্ধ ও গ্রেফতার হওয়া তার আরেক ছেলে জসিমকেও ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু জামিনে বের হয়ে পূনরায় অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রন নিতে সক্রিয় হয় রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যরা।




