বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের সেরা অভিযানের ইতি টেনে দেশে ফিরেও বীরের সম্মান পেয়েছে মিসর। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে নাটকীয়ভাবে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মিসর জাতীয় ফুটবল দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন হাজারো সমর্থক।
আল-আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আশপাশের সড়কে জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও দেশাত্মবোধক গান নিয়ে ভিড় করেন সমর্থকেরা। ‘মিসরের ছেলেরা আমাদের গর্বিত করেছে’ লেখা ব্যানার এবং অধিনায়ক মোহামেদ সালাহর ছবি হাতে দেখা যায় অনেককেই।
মিসরের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলেও এটি দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য। টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠার কৃতিত্বও অর্জন করেছে হোসাম হাসানের দল। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের।
দল দেশে ফেরার আগেই সুখবর দেয় মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। যদিও নতুন চুক্তির মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি এটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর হোসাম হাসানের অধীনে বদলে যায় মিসরের চেহারা। তাঁর কোচিংয়ে দলটি ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে খেলেছে, দীর্ঘ আট বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটিয়েছে এবং এবার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছেছে।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিং নিয়ে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও কোচ হোসাম হাসান প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানালেও, দেশে ফেরার দিন উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দলের ঐতিহাসিক অর্জন। এমনকি প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তাদের এই সাফল্যকে মিসরীয় ফুটবলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।








