নারায়ণগঞ্জ । শুক্রবার
১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন;
গুরুকে নিয়ে বাড়ছে গুঞ্জন, শিষ্যের কপালে চিন্তার ভাঁজ!

রাজধানীর অতি সন্নিকটের এক জনপদ নারায়ণগঞ্জ। এ জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অঞ্চল ভাবা হয় ফতুল্লা থানাকে। বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী এই অঞ্চলটি একাধারে ব্যবসা-বাণিজ্যে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনই ইতিহাস ও সংস্কৃতির পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও থাকছে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। বিগত বেশ কয়েক দশক ধরে এই ফতুল্লাকে কেন্দ্র করেই নির্ধারিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক নানা গতিপথ। পর্দার এপিঠ-কিংবা ওপিঠ; উভয় ক্ষেত্রেই রাজনীতি এবং ভোটের মাঠের এই গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভূমিকা রেখে চলেছেন এক ‘ঝান’ু রাজনীতিক। যিনি তার নিজস্ব ক্যারিশমায় অর্জন করেছেন ‘কিং মেকার’ খেতাব। রাজনীতির জটিল খেলায় তিনি যেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি!


বলা হচ্ছে ভোটের মাঠে ‘রহস্য পুুরুষে রূপ নেয়া’ সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর কথা।

কথিত আছে, বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে যথাক্রমে ৩, ৪ ও ৫ আসনে যারা দলীয় মনোনয়ন হাসিল করেছেন কিংবা নির্বাচনী বৈতরণি পাড়ি দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বের স্বাদ পেয়েছিলেন, তাদের পেছনে ছিলো এই কিং মেকারের আশির্বাদ। এই অঞ্চলের অনেক বাঘা বাঘা নেতারাও রাজনীতিতে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করে নেতৃত্বের দ্যুতি ছড়িয়েছেন। তার সান্নিধ্যে অনেকেই রাতারাতি নেতা বনে গেছেন। তেমনই একজন হলেন ফতুল্লার বিশিষ্ট শিল্পপতি মোহাম্মদ শাহ-আলম।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে গুরু মোহাম্মদ আলীর হাত ধরেই কল্যাণ পার্টি থেকে বিএনপিতে এসে ধানের শীষের মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছিলেন শাহ-আলম। তবে মনোনয়ন কেন্দ্রীক রাজনীতিতে সুযোগ সন্ধানী হয়ে উঠা এই ব্যবসায়ী ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিপত্তি আঁচ করতে পেরে অনুগত নেতাকর্মীদের মাঝপথে ফেলে নিজের পথ বেছে নিয়েছিলেন। ঘোষণা দিয়ে বিএনপির মাঠের রাজনীতি থেকে ইস্তফা নেয়া শাহ-আলম নামে মাত্র ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে।

দুর্দিনে রাজনীতির মাঠ থেকে সরে যাওয়া এই ব্যক্তিই এখন সুদিনের হাতছানিতে গা ভাসিয়েছেন, সরব হয়েছেন ধানের শীষ বাগিয়ে নেয়ার খেলায়। জোটের হিসেব-নিকেশে যদি ধানের শীষের মনোনয়ন বাগাতে না পারেন, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে শাহ-আলম অনুসারীদের মাঝে।

তবে এই যাত্রায় পাশে পাচ্ছেন না ‘গুরু’ মোহাম্মদ আলীকে। উল্টো ভোটের মাঠে ‘ম্যাজিশিয়ান’ খেতাব পাওয়া সেই গুরুই যেন বড় দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিষ্য শাহ-আলমের জন্য।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের বৃহৎ একটি অংশ এবং ফতুল্লার সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা চলছে মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে। তারা মোহাম্মদ আলীকে এই আসনে এমপি প্রার্থী হিসেবে দেখতে চেয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও উৎসাহ উদ্দীপনা প্রকাশ করছেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দরাও মোহাম্মদ আলীকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচন করার জন্য আহবান জানিয়েছেন। এতে সেই গুঞ্জনের পালে হাওয়া লেগেছে। যদিও নির্বাচন করা না করার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছুই জানাননি মোহাম্মদ আলী। তবে তাঁকে নিয়ে ভোটের মাঠে যেই গুঞ্জন চলছে, সেই গুঞ্জনই বড় দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিল্পপতি শাহ-আলম এবং তার অনুসারীদের জন্য। কেননা, গুরু মোহাম্মদ আলী যদি এই আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন, তাহলে তার সাথে লড়াই করার সাধ্য আছে কী শিষ্য শাহ-আলমের? সেই প্রশ্নই ভাবিয়ে তুলছে শাহ-আলম অনুসারীদের।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনির হোসেন কাসেমীকে সমর্থন করতে পারে বিএনপি; এমন সম্ভাবনার কথা অনেকেই বলছেন হলফ করে। সেক্ষেত্রে আসনটিতে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী থাকছে না। তবে জোটের প্রার্থী করা হলেও কাশেমীর মত রাজনীতির মাঠে ‘আনকোড়া’ প্রার্থীকে নিজেদের আসনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিবেন না বলেও এমন আলোচনা ভেসে আসছে ভোটারদের মাঝ থেকে।


এতে আসনটির জন্য যোগ্য ও অবস্থান সম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে যোজন যোজন এগিয়ে থাকছেন মোহাম্মদ আলী। দানবীর হিসেবে তার যেমন জনপ্রিয়তা রয়েছে, তেমনই রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংকও। এই অঞ্চলের মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি সর্বদা পাশে ছিলেন। তাই বিএনপি দলীয় প্রার্থী না দেয়ার সিদ্ধান্তে হাঁটতে থাকায় ফতুল্লার রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী এবং সাধারন মহলও যোগ্যতার বিচারে মোহাম্মদ আলীকে নিয়েই ভাবতে শুরু করেছেন।

ফতুল্লার প্রবীন ব্যক্তিরা বলছেন, উন্নয়ন বঞ্চিত ফতুল্লাকে ঢেলে সাজাতে হলে মোহাম্মদ আলীর মত একজন্য যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তির বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মোহাম্মদ আলীর বিশেষ কদর ও গ্রহণ যোগ্যতা থাকায় তিনি এখানকার এমপি হলে সুবিধা বঞ্চিত ফতুল্লার মানুষের জন্য তা হতে পারে আশির্বাদ। কেননা, এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য মোহাম্মদ আলী যতটা ভূমিকা রাখতে পারবেন, তা অন্যকারোর দ্বারা সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

তাই মোহাম্মদ আলীকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার জন্য ফতুল্লার রাজনৈতিক, ব্যবসায়ীক ও সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে অন্যান্য মহলের ব্যক্তিবর্গরাও প্রতিনিয়ত তার কাছে ছুটে যাচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধারাও রয়েছেন মোহাম্মদ আলীর পাশে। তারাও চাইছেন মোহাম্মদ আলী যেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের হাল ধরেন। তবে এখনো পর্যন্ত মোহাম্মদ আলী নিজে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে তার মতামত জানাননি। শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন এই ঝানু রাজনীতিবীদ, তা হয়তো জানা যাবে অচিরেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >