নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে ৪টিতে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। গুরুত্বপূর্ন আসন হিসেবে বিবেচ্য নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি এখনো খালি রাখা হলেও গুঞ্জন চলছে এখানে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনির হোসেন কাশেমীকে বেছে নেয়া হবে। এমন সমীকরণের মাঝেই আসনটিতে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আসনটির সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী। তাঁকে ঘিরে ইতিমধ্যেই আগামীর স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাধারন ভোটাররা। স্থানীয় বিএনপি ও অংগ সংগঠনের বৃহৎ একটি অংশও রয়েছে মোহাম্মদ আলীর পাশে।
তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবার ভোট দেবার সুযোগ হলেও বিএনপি যদি জোটের প্রার্থী হিসেবে মনির হোসেন কাসেমীকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে এখানে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী থাকছে না। সেক্ষেত্রে কাশেমীর মত রাজনীতির মাঠে ‘আনকোড়া’ প্রার্থীকে নিজেদের আসনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিবেন না তারা। এতে আসনটির জন্য যোগ্য ও অবস্থান সম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে যোজন যোজন এগিয়ে থাকছেন মোহাম্মদ আলী। দানবীর হিসেবে তার যেমন জনপ্রিয়তা রয়েছে, তেমনই রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংকও। এই অঞ্চলের মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি সর্বদা পাশে ছিলেন। তাই বিএনপি দলীয় প্রার্থী না দেয়ার সিদ্ধান্তে হাঁটতে থাকায় ফতুল্লার রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী এবং সাধারন মহলও যোগ্যতার বিচারে মোহাম্মদ আলীকে নিয়েই ভাবতে শুরু করেছেন।
ফতুল্লার প্রবীন ব্যক্তিরা বলছেন, উন্নয়ন বঞ্চিত ফতুল্লাকে ঢেলে সাজাতে হলে মোহাম্মদ আলীর মত একজন্য যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তির বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মোহাম্মদ আলীর বিশেষ কদর ও গ্রহণ যোগ্যতা থাকায় তিনি এখানকার এমপি হলে সুবিধা বঞ্চিত ফতুল্লার মানুষের জন্য তা হতে পারে আশির্বাদ। কেননা, এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য মোহাম্মদ আলী যতটা ভূমিকা রাখতে পারবেন, তা অন্যকারোর দ্বারা সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
তাই মোহাম্মদ আলীকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার জন্য ফতুল্লার রাজনৈতিক, ব্যবসায়ীক ও সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে অন্যান্য মহলের ব্যক্তিবর্গরাও প্রতিনিয়ত তার কাছে ছুটে যাচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধারাও রয়েছেন মোহাম্মদ আলীর পাশে। তারাও চাইছেন মোহাম্মদ আলী যেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের হাল ধরেন। তবে এখনো পর্যন্ত মোহাম্মদ আলী নিজে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে তার মতামত জানাননি।
যদিও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের এক মত বিনিময় সভায় মোহাম্মদ আলীকে নারায়ণগঞ্জ -৪ আসনের প্রার্থী হওয়ার জন্য জোড়ালো দাবী উঠেছে।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধাদের মত বিনিময় সভায় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট সরকার হুমায়ন কবীর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মোহাম্মদ আলীকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দেন। এসময় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাসহ সকলে এ দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এই বিষয়ে মোহাম্মদ আলী এখনো মুখ না খুললেও তিনি এই আসনে নির্বাচন করতে পারেন- এমন খবর এখন সর্বত্রই বিরাজমান। ফতুল্লার স্থানীয় ভোটাররাও চাচ্ছেন তিনি নির্বাচন করুক। তাদের মতে, মোহাম্মদ আলী নির্বাচন করলে এবং নির্বাচিত হলে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা-৪ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
এদিকে মোহাম্মদ আলীর ঢাকা ভেজিটেবল ওয়েল মিলের অফিসে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকার মুরুব্বীরা শিল্পপতি মোহাম্মদ আলীর সাথে সৌজন্যে সাক্ষাত করে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য জোড় দাবী জানাচ্ছেন। প্রতিদিনই নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের বিভিন্ন এলাকার লোকজন তাঁর অফিসে ভীড় করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে,বিএনপি জোটের প্রার্থী যদি কাশেমীকে করা হয় তাহলে নিশ্চিত মোহাম্মদ আলী বিজয়ী হবে। যদি কাশেমী নিজ দলীয় প্রতিকে নির্বাচন করেন তাহলে ভরাডুবি নিশ্চিত।
অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, কাশেমী বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। কারন, তিনি নির্বাচনী মাঠের হিসেব-নিকেশ কষে দেখেছেন, তার দলের প্রতিকে বৈতরণি পার হাতে পারবেন না। তাই নয়া সমীকরণে এগুছেন তিনি।
ফতুল্লা অঞ্চলের মানুষ বলছেন, ১৯৯১ সালে দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন মোহাম্মদ আলী। বক্তাবলী, আলীরটেক, গোগনগর রয়েছে মোহাম্মদ আলীর ভোট ব্যাংক। তাছাড়া নিজ এলাকা ফতুল্লা, এনায়েতনগর, কাশীপুর ও কুতুবপুরে রয়েছে ব্যাপক জনসমর্থন। ফলে মোহাম্মদ আলী যদি এই আসনে এমপি প্রার্থী হন, তাহলে তার বিপরিতে ধোপে টিকবেন না জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নেতা মনির হোসেন কাশেমী। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ আলী সেই লড়াইয়ে নামবেন কিনা; তা দেখতে মুখিয়ে আছেন ফতুল্লাবাসী।







