নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ঘিরে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। চলমান একাধিক মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর তাকে ঘিরে মুক্তির সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে তার অনুসারীরা।
এদিকে আইনি প্রক্রিয়ার এই অগ্রগতির মধ্যেই আইভী বলয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আইভীর অনুসারীরা বলছেন সম্ভাব্য নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তিনি মুক্তি পেতে পারেন। এমন আশায় তার সমর্থকরা মাঠ গোছানোর কাজ শুরু করেছেন। বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ, সংগঠন পুনর্গঠন এবং সমর্থকদের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন সাজাপ্রাপ্ত না হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন আইভী। তাই কারামুক্ত না হলে জেল থেকেই আইভী নির্বাচন করবেই। সেই বিষয়টা মাথায় রেখে সব দিক বিবেচনা করেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এদিকে আদালতের আসন্ন সিদ্ধান্ত আইভীর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদি তিনি মুক্তি পান তবে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন করে সমীকরণ তৈরি হবে। শহরজুড়ে আইভীর কারামুক্তি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে।
এর আগে গত রোববার (২৬ এপ্রিল) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে আইভীকে শ্যোন অ্যারেস্ট (শোন অ্যারেস্ট) দেখানো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন। এই আদেশকে আইভীর আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
এরপর সোমবার (২৭ এপ্রিল) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আইভীর পাঁচটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিষয়ে শুনানি শেষে আগামী ৩ মে আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। ফলে ওই দিনটিকে ঘিরে আইভীর মুক্তি নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, গত বছরের ৯ মে ভোররাতে শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন চুনকা কুটির থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রথমদিকে পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও তা আপিল বিভাগে স্থগিত হয়ে যায়।
পরবর্তীতে গত ১৮ নভেম্বর তাকে আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে জামিন মঞ্জুর করেন। এসব মামলার মধ্যে ফতুল্লা থানায় দায়ের করা আবুল হোসেন মিজি, আব্দুর রহমান, মো. ইয়াছিন ও পারভেজ হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সদর মডেল থানায় দায়ের করা হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগেও একটি মামলা রয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই জামিনাদেশ স্থগিত করেন এবং বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এরই মধ্যে আরও দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।








