দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে আন্দোলন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা বিএনপি’র উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণীয় এক বিজয় র্যালিতে এই কথা জানান বিএনপির বিজ্ঞ ও প্রবীন এই নেতা।
তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি এদেশের সবচাইতে জনপ্রিয় দল, সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে বিএনপি রাজনীতি করে। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে আমাদের যেমন আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, তেমনিভাবে উন্নয়নের যে কর্মসূচি সেটাও আগামী দিন বাস্তবায়ন করার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতা বলেন, ‘১৭ বছর আন্দোলন, সংগ্রামের মধ্যদিয়ে সবচাইতে বেশি যারা ত্যাগ শিকার করেছেন, সবচাইতে বেশি নির্যাতন যারা ভোগ করেছেন তারা হচ্ছে আমাদের বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থক। গুম, খুন, হত্যা, মিথ্যা মামলা, জেল জুলুম, সকল নির্যাতন সহ্য করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি আমরা। আমরা সকল নির্যাতন সহ্য করেছি, সকল অন্যায় ও রক্ত চক্ষুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি, সন্ত্রাস-গডফাদারের হুংকারে দমে যাইনি বরং চোখে চোখ রেখে জবাব দিয়েছি। কারণ সেই সৎ সাহস আমাদের আছে। কারো কাছে মাথা নত করিনি। কারো সাথে আঁতাত করিনি। আওয়ামী লীগের দুঃসাশনের সময়েও সকল ভয় উপেক্ষা করে এবং নির্যাতনের খরগ কাধে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামকে বেগবান করেছি। নেতাকর্মীদের চাঙা করে রাজপথে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নতুন করে জাগরণ তৈরী করেছি। আবার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন করেছে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে কিন্তু এখনো দেশে রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। যতক্ষণ পর্যন্ত না দেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় ততক্ষণ পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন সংগ্রাম চলবে।’
এদিকে, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হাজারো গাড়িবহর ও নেতাকর্মীদের নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা এলাকায় ব্যাপক পরিসরে আনন্দ র্যালী করেন। র্যালীটি সকলের নজর কাড়ে। অনেকে এটিকে সাম্প্রতিক কালের সর্ববৃহৎ, সুশৃঙ্খল ও স্মরনীয় র্যালী হিসেবে অভিহিত করেছেন। র্যালীতে অংশ নেয়া হাজারো নেতাকর্মীদের হাতে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা। শোভা পেয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি সংবলিত নানা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। এ সময় র্যালিতে বিএনপি’র পক্ষে নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে রাজপথ।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মো. মাজেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে র্যালিতে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম. এ. হালিম জুয়েল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর জি. এম. সাদরিল, সহ-সভাপতি ডি.এইচ. বাবুল, সহসভাপতি রওশন আলী, সহ-সভাপতি অ্যাড. মাসুদুজ্জামান মন্টু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাধীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর হোসেন, ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিস সিকদার, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান।
অপরদিকে ফতুল্লার র্যালীটিতে ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ মোল্লার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন- সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খন্দাকার মনিরুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন খন্দাকার শিপন, সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আলী, ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মাহমুদ পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী বিল্লাল হোসেন, কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মঈনুল হাসান রতন, বিএনপি নেতা সুমন মাহাবুব, নাছির প্রধান, আশিক মাহমুদ সুমনসহ আরও অনেকে।







