নারায়ণগঞ্জ । শুক্রবার
১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে বস্ত্র বিতরণ
দল ও নেত্রীর জন্য ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : রুহুল

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার বলেছেন, ‘আগামী দিনেই যেই নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। ধানের শীষের প্রতীকের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই এলাকা থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে, তাকে তথা ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য আমাদের সবাইকে এক সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, ধানের শীর্ষের প্রার্থী জয়লাভ করলে আমাদের সেই কারা-নির্যাতিত আপোষহীন নেত্রী তার শেষ বয়সে বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।’


বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮০ মত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অসহায়দের মাঝে বস্ত্র বিতরন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফতুল্লা ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে ৬ ও ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা ও থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এদিকে, রুহুল আমিন শিকদার তার বক্তব্যের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার শৈশব থেকে শুরু করে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত দেশ ও জাতির জন্য করা তার আপোষহীন নীতি, স্বার্থহীন সংগ্রামগাথা জীবনীর ফিরিস্তি ও অসামান্য ত্যাগ তিতিক্ষার এক মন্ত্রমুগ্ধ বর্ণনা দেন। রুহুল আমীন শিকদারের এই ইতিহাসগর্ভ বক্তব্যের ফলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও দলীয় কর্মী সমর্থকসহ সাধারণ মানুষের মাঝে ভিন্ন অনুভূতির সৃষ্টি হয়।


বেগম খালেদা জিয়ার জীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে রুহুল আমিন শিকদার বলেন, ‘আজকে আমরা এমন একজন নেত্রীর শুভজন্মদিন পালন করছি, যেই নেত্রীর দীর্ঘ ৮০ বছরের মধ্যে মাত্র ১৩-১৪ বছর বাদ দিয়ে জীবনের পুরোটা সময় বাংলাদেশের মানুষের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। ১৪ বছর বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মাত্র ২-৩ বছরের ব্যবধানেই তিনি বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্র নায়ক ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মীনী বিধায় তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। ৪ বছর বছর আবার ১৯৭৫ সালে তাকে পূনরায় কারাবরণ করতে হয়েছে। অল্পসময়েই সংসার জীবনে প্রিয় স্বামীকে হারান তিনি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে তার স্বামী স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন শাহাদাত বরণ করেন, তখন একজন গৃহবধু হয়ে তিনি তার অবুঝ দুই সন্তানকে নিয়ে দিনাতিপাত করেছেন। ১৯৮২ সালে স্বৈরাচার এরশাদ যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে ধ্বংস করার জন্য বারবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তখন তিনি একজন গৃহবধু থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হাল ধরেছেন ও নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে ছুটে গিয়েছিলেন। জাতীয়তাবাদী দলকে তথা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌছে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এই অবস্থায় ১৯৮৬ সনে, ১৯৮৮ সনে এবং ১৯৯০ সনে তিনি চারবার গ্রেফতার হয়েছেন। তার অবুঝ দুই সন্তান, আজকের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর হামলা করা হয়েছে। যেই নেত্রী দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের মানুষের জন্য, দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য তিনি বিরামহীন আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। আজকে সেই নেত্রীর জন্মদিন আমরা পালন করছি। সেই নেত্রীকে বিগত স্বৈরাচার সরকার পরিকল্পিত ভাবে হত্যার জন্য কারাগারে এবং গৃহে নির্মম ভাবে বন্দি করে রেখেছিলো। সেই নেত্রীকে শেষ বয়সে ক্ষমতায় বসাতে হলে আমাদের মধ্যে ভেদাভেদ রাখা যাবে না। দলের স্বার্থে এবং নেত্রীকে শেষ বয়সে উপহার দেয়ার জন্য হলেও ধানের শীষের পক্ষে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এই আসনে যেন ধানের শীষের প্রার্থী দেয়া হয়, সেই জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের স্বার্থে কাজ করতে হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >