ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মানববন্ধন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা জাতীয় নাগারিক কমিটি (এনসিপি)-এর প্রধান সমন্বয়ক ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী মোজাম্মেল হকসহ (২৮) দুজন।
আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হামলার শিকার হন তাঁরা। আহত মোজাম্মেলকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কিছুদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসাইনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলছিলেন এনসিপির স্থানীয় কমিটির এক সদস্য।
অভিযোগের স্বপক্ষে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মোজাম্মেলের নেতৃত্বে মানববন্ধনে অংশ নিতে বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে জড়ো হন। তাদের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা ব্যানার নিয়ে মানবন্ধনে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আসা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা মানববন্ধনকারীদের ওপর চড়াও হন। পরে তারা মোজাম্মেলের ওপর হামলা চালালে অন্যরা দৌড়ে হাসপাতালের ভেতর আশ্রয় নেন।
হামলায় মোজাম্মেলের ডান হাত ভেঙে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, হামলায় আহত আরেক নেতা মাসুম বিল্লাহকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখা হলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ বিভাগের এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকিন আলম রাজন বলেন, এই হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছিল।
আর এসবের মূল হোতা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাকির হোসাইন। তিনিই বুধবার মানববন্ধনে নিজের পালিত দালাল ও সন্ত্রাসী এনে হামলা করান। এ ঘটনার সঠিক বিচারের জন্য আমরা মাঠে নামব।
তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাকির হোসাইন বলেন, আমি ওই সময় বাইরে ছিলাম। আর ঘটনাও হাসপাতালের বাইরে হয়েছে।
এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রতিবাদী জনতাই মানববন্ধন প্রতিহত করতে এসেছিল।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সেখান থেকে আহত একজন নেতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।








