নারায়ণগঞ্জ । শুক্রবার
১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যা: চার্জশিট গ্রহণের শুনানি বৃহস্পতিবার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা মামলায় ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য আরও দুইদিনের সময় নিয়েছেন মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে মামলার বাদী আদালতে হাজির হয়ে এই সময়ের আবেদন করেন।

বাদী পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ‎ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেন।

বাদী পক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল এতথ্য নিশ্চিত করেন।

মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, আজকে বাদী পক্ষে তিন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। বাদীপক্ষ থেকে ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য সময় আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত আগামী বৃহস্পতিবার চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে শুনানির তারিখ ধার্য করেন।

শুনানি শেষে বাদী পক্ষের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি বলতেন, ‘আমার শত্রুর সাথেও ন্যায় বিচার করতে চাই।’ এই কথাকে মাথায় রেখে আমরা এ মামলার চার্জশিট নিয়ে আরও স্টাডি করতে চাই। যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তি শাস্তি না পান।

বাদীপক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত তিন আইনজীবী হলেন- সিনিয়র আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যরিস্টার এস এম মইনুল করিম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল।

এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বাদী জাবের বলেন, আমরা দুইদিন সময় নিয়েছি। আগামী ১৫ জানুয়ারি এই চার্জশিটে আপত্তি আছে কিনা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, ‎গত ৬ জানুয়ারি এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ, ফয়সালের সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার। তারা সবাই পলাতক আছেন।

বাকি ১১ আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন। তারা হলেন—ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবির, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু ও নরসিংদীতে অস্ত্রসহ আটক মো. ফয়সাল।

তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে পলাতক ৬ আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরীফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটর সাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন। পরবর্তীতে এটা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >