শরিফুলের ৭ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানে হারলো বাংলাদেশ।
শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, ব্যাটারদের ব্যর্থতায় তা আর কাজে লাগাতে পারল না বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ে মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে গেল দ্বিতীয় টেস্ট।প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও পিছু ছাড়েনি ব্যাটিং ব্যর্থতা। ৩৮.৩ ওভারে মাত্র ৯৫ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার ইনিংস ও ৫১ রানে।
অবশ্য শনিবার ম্যাচের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অসহায় চেহারা ফুটে ওঠে। মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৩৪ ওভারে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। স্টার্ক মাত্র ১২ রানে নেন ৬ উইকেট।
অথচ বল হাতে বাংলাদেশ তখনো ম্যাচে ছিল। শরিফুল ইসলাম পাল্টা জবাব দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। শিকার করেন ৭ উইকেট। এর আগে কোনো বাংলাদেশী পেসার এক ইনিংসে ৭ উইকেট নিতে পারেননি।
শরিফুল অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে থামিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দেন। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। আরো একবার দায়িত্বহীন ব্যাটিং উপহার দিয়েছে তারা।
১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগেই ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারায় তারা। আবারো ব্যাটারদের টেকনিক, ধৈর্য ও শট নির্বাচনের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে হতাশার বিষয়, প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পর সিরিজ জয়ের দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু ম্যাকাইয়ের বাউন্স ও সুইং সামলাতে ব্যাটাররা যেন কোনো প্রস্তুতিই নিয়ে আসেননি।
নাজমুল হোসেন শান্তর ৩১ ও মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ২৯ রান ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কেও যেতে পারেনি দ্বিতীয় ইনিংসে। স্টার্ক এবার নেন ৪ উইকেট। বাকি ৬ উইকেট সমানভাবে ভাগ করেন নাথান লায়ন ও প্যাট কামিন্স।
মাত্র দুই দিনে ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়া তাই শুধু অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ের কৃতিত্ব নয়, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের চরম ব্যর্থতারও প্রতিচ্ছবি। যেন পুরোপুরি মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলো টাইগাররা। প্রাপ্তি বলতে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করা।







