নারায়ণগঞ্জ ।
,

রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে আহত সাংবাদিকের চিকিৎসার দায়ভার কি রাষ্ট্র নেবে না?

রাষ্ট্রের সম্পদ, জনগণের অধিকার ও অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রায়ই ঝুঁকির মুখে পড়েন। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব কি রাষ্ট্রের নেই?

রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী আহত হলে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার বা রাষ্ট্র বহন করে থাকে। অথচ সাংবাদিকরা একই রাষ্ট্রের সম্পদ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করতে গিয়ে হামলার শিকার হলে তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব কে নেবে—এ প্রশ্ন আজও অনুত্তরিত।

এমনই নির্মম বাস্তবতার শিকার কক্সবাজারের চকরিয়ার সাংবাদিক এম জিয়াবুল হক। তিনি দৈনিক সংবাদের চকরিয়া প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, চকরিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে চকরিয়ার উত্তর হারবাং এলাকায় বালু উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নাজিম উদ্দীনসহ একটি পক্ষের হামলার শিকার হন তিনি। হামলায় তার হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। একই ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আরও দুই সাংবাদিকও আহত হন।

আহত জিয়াবুল হক কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ইতোমধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি টাকা ব্যয় করেছেন। চিকিৎসা ব্যয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পর সহকর্মীদের আর্থিক সহযোগিতায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় আসেন। গুরুতর আঘাতের কারণে তিনি বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে কলম ধরার সক্ষমতাও হারিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তিনি আর লিখতে পারছেন না—একজন পেশাদার সাংবাদিকের জন্য এর চেয়ে বড় বেদনা আর কী হতে পারে?

এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও অভিযোগ রয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়েছে। ফলে হামলার শিকার সাংবাদিক ও তার সহকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশা আরও বেড়েছে।

অবশেষে রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার কলাবাগান এলাকার লং লাইফ হাসপাতালে সাংবাদিক এম জিয়াবুল হকের অস্ত্রোপচার করা হয়। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জন ডা. মাহমুদ হাসানের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।

সাংবাদিক এম জিয়াবুল হকের এই চিকিৎসা সংগ্রাম শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়; এটি দেশের মফস্বল সাংবাদিকদের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে চিকিৎসা সহায়তা, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি সাংবাদিক এম জিয়াবুল হকের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভকে রক্ষা করা শুধু সাংবাদিক সমাজের দায়িত্ব নয়—সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক যেন চিকিৎসার অভাবে অসহায় হয়ে না পড়েন, সেটিই এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >