নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী চাটখিল চার লেন সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ছবি: কালবেলা
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী-চাটখিল চার লেন সড়কের পাশের সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নতুন করে নির্মিত এসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা, আনসার ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, সড়ক বিভাগের চাহিদার ভিত্তিতে এবং সোনাইমুড়ী-চাটখিল চার লেন সড়ক নির্মাণকাজ নির্বিঘ্ন করতে সরকারি জায়গা থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নতুন করে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা ভেঙে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এর আগে গত শনিবার দুপুরে, সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শনিবার মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে দেড় শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, ১৯৬০ সালের পর সড়ক নির্মাণের জন্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করলে ভুক্তভোগীরা তাদের মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় জমি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেন। ২০২৪ সালে সোনাইমুড়ী-চাটখিল-রামগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প অনুমোদনের পর পুনরায় জায়গা খালি করার নোটিশ পেয়ে তারা স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার রাতে সোনাইমুড়ী পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন চেম্পু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির ভূঁইয়া, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল ভূঁইয়া, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল ভূঁইয়া ও যুবদল নেতা মোজাম্মেল হোসেন অপুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে টিনের বেড়া দিয়ে কলেজ পুকুরপাড় থেকে শিমুলিয়া কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ফুট জায়গা দখলের চেষ্টা করে। অভিযুক্তরা পার্শ্ববর্তী ভানুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এবং শিমুলিয়া গ্রামে তাদের কোনো জমি বা ওয়ারিশ নেই। শুধু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা এ ধরনের দখলচেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।








