নারায়ণগঞ্জের বাজারগুলোতে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডিমের দাম। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজনে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এতে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। বর্তমানে বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়। অথচ গত মাসেও একই ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
বুধবার (১৩ মে) শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ডিমের বাড়তি দামে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী শাকিল খান বলেন, মাছ-মাংস তো আগেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। এখন ডিমও সেই পথে হাঁটছে। কয়েকদিন আগেও ১২০ টাকায় ডজন কিনেছি, এখন ১৫০ টাকা দিতে হচ্ছে।
কালীরবাজারে বাজার করতে আসা গৃহিণী মারিয়া বেগম বলেন, বাচ্চাদের নিয়মিত ডিম খাওয়াতে হয়। কিন্তু এখন একসাথে এক ডজন কিনতেও হিসাব করতে হচ্ছে। প্রতিদিনই যেন নতুন দাম। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সংকট ও পোল্ট্রি ফিডের দাম বাড়ার কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
দেওভোগ এলাকার এক পাইকারি ডিম ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে ঠিকমতো ডিম আসছে না। খামারগুলোতেও উৎপাদন কমেছে। আজ লাল ডিমের পাইকারি রেটই ১৩০ টাকার ওপরে। তাই খুচরায় বাড়তি দাম পড়ছে।
ডিম ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, খামারিরা বলছে পোল্ট্রি ফিডের দাম বেড়েছে। গাজীপুর ও আশপাশের খামার থেকে যেসব ডিম আসে সেগুলোও আগের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে দাম বাড়ার কারণে বিক্রিও কিছুটা কমে গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া এবং উৎপাদন খরচ কমে না আসা পর্যন্ত ডিমের দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের তালিকায় নতুন করে চাপ বাড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।






