নারায়ণগঞ্জ ।
,

হাজী সাহেবের পর খান সাহেবের ছায়া
অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বান্টির বৃহস্পতি তুঙ্গে!

বিশেষ প্রতিবেদক : শহরের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের মধ্যে অন্যতম এক নাম সোয়াদ হোসেন বান্টি। আওয়ামী লীগের শাসনামলে সন্ত্রাসীদের মাথার তাঁজ হয়ে উঠা আজমেরী ওসমানের ছায়ায় দাপিয়ে বেড়াতেন। ছিলেন ‘হোন্ডাবাহিনীর’ অন্যতম এক মুখ। আওয়ামী লীগের পতনের পর সেই বান্টি এখন বনে গেছেন বিএনপি নেতা! আলোচিত বিএনপি নেতা জাকির খানের অন্যতম ‘সেনাপতি’ হয়ে উঠেছেন! দিন-রাত জাকির খানের ছায়া হয়ে থাকা এই বান্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ২নং রেল গেইট ও দেওভোগ সহ আশেপাশের বেশ কিছু এলাকার অপরাধ জগৎ। বিভিন্ন সেক্টরের চাঁদাও উঠে তার নামে! ললাটে নানা অপরাধের তিলক থাকলেও তার ‘বৃহস্পতি’ এখন তুঙ্গে রয়েছে।

জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত এই সন্ত্রাসী ইতিপূর্বে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে জড়িয়ে আলোচনায় এসেছিল। তিনটি বিদেশী পিস্তলসহ গ্রেফতারও হয়েছিল সে। মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক আইনে একাধিক মামলাও। তালিকাভুক্ত সেই সন্ত্রাসী এখন বিএনপির আলোচিত নেতা জাকির খানের ‘ঘনিষ্ট ছায়া’ হয়ে প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সর্বত্র। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও।

জানা গেছে, পুরো নাম সোয়াদ হোসেন বান্টি। লোকে তাকে এক নামে বান্টি বলেই চেনেন। সূত্র বলছে, শহর ও আশপাশের এলাকার মাদকের সিন্ডিকেট রয়েছে বান্টির নিয়ন্ত্রণে। অন্তরালে থেকে অবৈধ এই কারবারিতে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে বান্টি। তার বাড়ীর নীচ তলায় গড়ে তোলা আস্তানায় নিয়মিত যাতায়াত করতে দেখা যায় চিহ্নিত মাদক কারবারী ও সন্ত্রাসীদের।

তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র ১ ও ২নং রেল গেইট, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, কালিরবাজার, দ্বিগুবাবুর বাজার, চারার গোপ, দেওভোগ, গলাচিপা, চাষাড়া ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ন এলাকাগুলোর বৈধ-অবৈধ প্রায় সকল সেক্টরেই রয়েছে বান্টির নিয়ন্ত্রণ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দিগুবাবুর বাজারের ইজাদারের পক্ষ হয়ে বৃহৎ একাংশের দোকানীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের দায়িত্বে থাকা বান্টি বাজারের সীমানার বাহিরেও রাস্তার ফুটপাত দখল করে বসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা উত্তোলন করছে। কোনো কোনো স্থান ২ থেকে ৩ শিফটে ভাড়া দিয়ে দৈনিক হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের চাঁদা।

অনুসন্ধান মতে, দ্বিগুবাবুর বাজারের এই সেক্টরটি তার অপরাধনামার মামুলি কারবার মাত্র! কেননা, তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, নারীর ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাক মেইলিং, ভূমিদস্যুতা, বিচার শালিসির নামে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়া, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজী সহ একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ পরিচালনা ও জনমনে ত্রাস সৃষ্টির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এমনকি শহরের কয়েকটি ছিনতাইকারী চক্রকে আড়াল থেকে মদদ দিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো।

শহরের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ২নং রেলগেইটসহ নগরীর আশপাশের গুরুত্বপূর্ন এলাকাগুলোয় অপরাধ বিস্তারের নেপথ্যে রয়েছে দুর্ধর্ষ বান্টি। ফলে বান্টিকে আইনের আওতায় আনা গেলে শহরের প্রাণকেন্দ্রগুলোতে যেমন অপরাধীদের লাগাম কষবে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো উন্নতির পাশাপাশি স্বস্তি মিলবে নগরবাসীরও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বান্টির বিরুদ্ধে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক, চাঁদবাজী, ব্ল্যাক মেইলিং ও ভূমিদস্যুতা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। বিগত বেশ কয়েক বছর আগে দিনে দুপুরে সৈয়দপুর ব্রিজ এলাকায় পুলিশের সাথে প্রকাশ্যে বন্দুক যুদ্ধে জড়ায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বান্টি। এতে পুলিশের এসআই সহ চার সদস্য আহত হয়। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বান্টিকে তিনটি বিদেশী পিস্তল ও ১৩ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছিল পুলিশ।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার হওয়া এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাসহ অন্যান্য থানায় রয়েছে একাধিক মামলা। চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে থানায় আরো একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছিল তার বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হলেও রাজনৈতিক ছায়ায় থেকে শহরের বুকে দিব্যি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সে।

সন্ত্রাসী বান্টির বিষয়ে জানতে চাইলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, ‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের প্রতি আমাদের গোয়েন্দা নজরদারী রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >