নারায়ণগঞ্জ । সোমবার
১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইপিএলের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখল বেঙ্গালুরু কোহলির বীরত্বে

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) টানা দ্বিতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ফাইনালে আজ গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছে আরসিবি। শিরোপার লড়াইয়ে আরও একবার বিরাট কোহলির মাস্টারক্লাস ব্যাটিং দেখল ক্রিকেট দুনিয়া।

আহমেদবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে গুজরাটকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আরসিবি। আগে ব্যাট করতে নেমে তেমন সুবিধা করতে পারেনি গুজরাট। দলের মূল শক্তি দুই ওপেনার সাই সুদর্শন এবং শুবমান গিল শুরু থেকেই কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন। ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতেও পারেননি তারা। ওপেনিং জুটি ভেঙেছে দলের ২২ রানের মাথাতে। ৮ বলে ১০ রান করে সাজঘরে ফিরে যান গিল। তাকে ফিরিয়েছেন জশ হ্যাজলউড। পরের ওভারেই সুদর্শনকে ফেরান ভুবনেশ্বর কুমার। মাত্র ২৬ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে গুজরাট।

সেখানেই অনেকটা কোমর ভেঙে যায় গুজরাটের ইনিংসের। এরপরেও চেষ্টা চালিয়ে গেছেন বাকি ব্যাটাররা। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ক্রিজে জুটি বাঁধেন তিনে নামা জস বাটলার এবং চারে নামা নিশান্ত সিঁধু দেখেশুনে এগিয়েছেন দুজন। বাটলার অনেক সময় নিলেও সেভাবে রান বের করতে পারেননি। আরেক প্রান্তে নিশান্তও ছিলেন নড়বড়ে। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান তোলে গুজরাট টাইটান্স।

বাটলার ২৩ বলে ১৯ রানের শম্বুকগতির ইনিংস খেলে বিদায় নেন। এর আগেই ফিরেছেন ১৮ বলে ২০ রান করা নিশান্ত সিঁধু। পাঁচে নেমে দলের হাল ধরেন ওয়াশিংটন সুন্দর। এক প্রান্ত ধরে রেখে খেলে গেছেন তিনি। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শট খেলে রানও বের করেছেন। বাকিদের মধ্যে আরশাদ খান ৬ বলে ১৫ রান করেছেন। অন্য কেউ সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি।

কার্যকরী ব্যাটিংয়ে ফিফটি তোলেন সুন্দর। লড়াকু ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন একদম শেষ পর্যন্ত। সুন্দরের ব্যাটে ভর করেই দেড়শ পার করে গুজরাট। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় গুজরাট টাইটান্স। ৩৭ বলে ৫০ রান করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন সুন্দর।

আরসিবির হয়ে ৩ উইকেট নেন রাসিখ সালাম। ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন ভুবনেশ্বর কুমার এবং জশ হ্যাজলউড। এছাড়া ১ উইকেট তোলেন ক্রুনাল পান্ডিয়া।

জবাব দিতে নেমে আরসিবিকে ভালো শুরু এনে দেন ভেঙ্কাটেশ আইয়ার এবং বিরাট কোহলি। দুই ওপেনারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ঝড়ের গতিতে এগোতে থাকে আরসিবির ইনিংস। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং চালিয়েছেন ভেঙ্কাটেশ এবং কোহলি। ওপেনিং জুটিতে চলে আসে ৬২ রান। ১৬ বলে ৩২ রান করে বিদায় নেন ভেঙ্কাটেশ। পরের ওভারে বিদায় নেন তিনে নামা দেবদূত পাড়িক্কালও। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৭০ রান তোলে আরসিবি।

এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন বিরাট কোহলি। চারে নেমে কোহলির সাথে যোগ দেন অধিনায়ক রজত পতিদার। দুজনের ব্যাট ভর করে এগিয়ে চলেছে আরসিবির ইনিংস। পতিদার ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ১৩ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন অধিনায়ক। ক্রুনাল পান্ডিয়া ২ বলে ১ রান করেছেন। এক ওভারের মধ্যেই পতিদার এবং ক্রুনালকে ফেরান রশিদ খান। তবে কোহলিকে ঠেকানো যায়নি। মাত্র ২৫ বলেই ফিফটি ছুঁয়েছেন রান তাড়ার অঘোষিত রাজা কোহলি। টিম ডেভিড নেমে ১৭ বলে ২৪ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন।

ডেভিডের বিদায়ের পর কোহলির সাথে যোগ দেন জিতেশ শর্মা। ফিফটি হাঁকিয়ে ছুটে চলেছেন বিরাট কোহলি। মাঝে একবার গিলের হাতে ধরা পড়লেও টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল লেগে গিয়েছিল মাঠের সাথে। ফলে বেঁচে যান কোহলি। শেষ পর্যন্ত কোহলির ছক্কাতেই শিরোপা জেতে আরসিবি। ১২ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতেছে বেঙ্গালুরু। ৪২ বলে ৭৫ রান করে টিকে ছিলেন বিরাট কোহলি। ১৪ বলে ১১ রান করে অপরাজিত ছিলেন জিতেশ শর্মা।

গুজরাট টাইটান্সের হয়ে ২ উইকেট নেন রশিদ খান। ১টি করে উইকেট তুলেছেন মোহাম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাদা এবং আরশাদ খান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >