নেত্রকোণার বারহাট্টায় সরকাররি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে আনা ১০ হাজার পিস শাড়ি ও ত্রি-পিসসহ একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকালে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের কাকুরাবাজার এলাকা থেকে জনসাধারনের সহায়তায় ওইসব পণ্য ও ভ্যান জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় ভ্যানের চালক (২৮) ও তার হেলপারকে (২৫) আটক করা হয়েছে।
বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিংধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাছিম উদ্দিন তালুকাদার জানান, খবর পাওয়ার পর আমি থানায় খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। অনেক লোক ভ্যানটি ঘিরে রেখেছিল। তারা ভ্যানের ভিতরে কি আছে জানার জন্য ছটফট করছিলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সকলের সামনে ভ্যানের ভিতর তল্লাশি চালিয়ে ভারতীয় শাড়ি, ত্রি-পিস ইত্যাদি পাওয়া যায়।
স্থাণীয় জনগণ ও পুলিশসূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর বাজার থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন ১৬-১৮১৯) নেত্রকোণার বারহাট্টার দিকে আসে। পথে ভ্যানটি ধরমপাশা উপজেলার গাভীবাজারের একটি ঘর ও একটি গাছের সাথে ধাক্কা খায়। পরে ভ্যানটি তড়িঘড়ি স্থান ত্যাগ করলে উৎসুক জনতার সন্দেহ জাগে। তাদের পক্ষ হতে বিষয়টি বারহাট্টা উপজোর কাকুরাবাজারের কয়েকজনকে ফোন দিয়ে জানানো হয়। খবর পেয়ে ওঁৎ পেতে থাকা লোকজন কাকুরাবাজারে ভ্যানটির গতি রোধ করে এলাকার চেয়ারম্যানকে খবর দেয়। ভ্যানে ৮ থেকে ১০ হাজার পিস শাড়ি ও থ্রি-পিস আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভ্যানের চালক ইব্রাহিমের বাড়ি গাজীপুরের মাওনা বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, ভ্যানে ৯০ প্যাকেট শাড়ি ও থ্রি-পিস আছে। চোরাচালানির ঘটনায় নেত্রকোণা জেলাসদরের একজন সাংবাদিক সরাসরি জড়িত। তিনি আমাদের সাথে ছিলেন। ভ্যান আটকের পর জনসাধারনের ভীড়ে তারা আত্নগোপন করেন। পুলিশের কাছে তার নাম ও পরিচয় বলা হয়েছে। চালক আরো জানান, মধ্যনগর নদীর ঘাটে বড় নৌকা থেকে প্রকাশ্যেই মালামাল ভ্যানে উঠানো হয়।
ওসি কামরুল হাসান বলেন, জব্দ মালামালের তালিকা করা হচ্ছে। অনেকগুলো ব্যাগ, হিসাব শেষ করতে সময় দরকার। আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, জব্দ মালামালের নয়ছয় রোধে স্থানীয় বিএন ও অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের থানায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। সিংধা ইউনয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, জব্দ তালিকা যাতে সঠিকভাবে করা হয় সে জন্য আমরা এখানে অবস্থান করছি। দোষী যেই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।







