স্টাফ রিপোর্টার : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে নগরীতে দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছিলো অয়ন ওসমানের ক্যাডার কাউসার। নগরীর চাষাড়া, বঙ্গবন্ধু সড়কের উকিলপাড়া, ২নং রেলগেইট, দেওভোগ, নিতাইগঞ্জ সহ আশপাশের এলাকায় আন্দোলনকারীদের উপর গুলি বর্ষন করা সেই ছবি-ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সর্বত্র। এখনো ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। ছাপা হয়েছে খবরের পাতাতেও। তবে অস্ত্রধারী সেই সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ কিংবা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার আগেই দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যায় এই সন্ত্রাসী।
অয়ন ওসমানের সুবাধে অল্প দিনেই টাকার কুমির বনে যাওয়া এই কথিত ছাত্রলীগ ক্যাডার কাউসার এখন বিদেশ থেকে মোটা অংকের অর্থ ডোনেট করে বিএনপি সরকার বিরোধী মিছিল করিয়ে যাচ্ছেন।
ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও সদরে কাউসারের পালিত বাহিনী এখনও সক্রিয় রয়েছে। তারা দিনে বিএনপির সুবিধাবাদি কিছু নেতার ছায়ায় হয়ে থাকলেও রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগের মিছিল চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে স্থানীয়দের মাঝে।
সম্প্রতি ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় কাউসারের নির্দেশনায় মিছিল করে তার আনুসারীরা।
অভিযোগ রয়েছে, ওসমানীয় অবৈধ অস্ত্রের মজুদ রয়েছে কাউসারের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনীগুলোর হেফাজতে। তাদের ধরে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বেড়িয়ে আসবে অস্ত্রের খবর- এমনটা বলছে স্থানীয় সূত্রগুলো।
এদিকে, গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলন ঘিরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় যে কয়টি মামলা রুজু হয়েছে, তার একটি মামলার এজাহারেও কাউসারের নাম নেই। এ নিয়ে চলছে সমালোচনা। কার ইশারায় সদর থানার মামলাগুলোর এজাহারে আসামীর তালিকায় উঠে আসেনি কাউসারের নাম, সেই প্রশ্ন সচেতন মহলে।
একটি সূত্রে জানা গেছে, অয়ন ওসমানের ক্যাডার হলেও কাউসারের সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক দুই কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতাদের সাথে দহরম মহরম সম্পর্ক বিদ্যমান। ওই দুই কাউন্সিলরের সাথে ওসমান পরিবারের সম্পর্ক ছিলো ওপেন সিক্রেট। এর মধ্যে একজন দেশের আলোচিত কাউন্সিলর হিসেবেও পরিচিত। আরেকজন আওয়ামী লীগের সময়ে সেলিম ওসমানের নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বিএনপি থেকে বহিস্কার হয়েছিলেন। তাদের তদবিরের কারণে অস্ত্রধারী কাউসার প্রকাশ্যে গুলি করে এবং নগরীতে তান্ডব চালালেও সদর থানায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি বলে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের এক শীর্ষস্থানীয় কর্তকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক সংবাদচর্চাকে বলেছেন, ‘যখন এই মামলাগুলো রুজু হয়, তখন আমি নারায়ণগঞ্জে ছিলাম না। তাছাড়া এই মামলাগুলো পুলিশ বাদি হয়ে করেনি। যারা ভুক্তভোগি ছিলো, তারা করেছে। এখন বাদী কোনো চাপ বা অন্যকোনো কারণে জড়িত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়েছে কিনা, সেটা আমার জানা নেই। তবে এইটুকু বলতে পারি যে, যারা অপরাধী তারা কোনো ভাবেই ছাড় পাবে না। পর্যায়ক্রমে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। যারা মিছিল করছে কিংবা নাশকতা চক্রান্ত করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে আমরা সচেষ্ট।’





