নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার শাসনগাঁওয়ে পঞ্চবটী–মুক্তারপুর উড়ালসড়কের পাইলিং চলাকালে আবারও তিতাস গ্যাসের প্রধান পাইপলাইন ফেটে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। ১২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ হঠাৎ ফেটে গেলে প্রচণ্ড ‘শোঁ শোঁ’ শব্দে চারদিকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়তে থাকে ঘরের ভেতর থেকে রাস্তায় থাকা মানুষ সবাই ছুটতে শুরু করেন নিরাপদ জায়গার দিকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিতাস কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে রোববার দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ আবাসিক গ্রাহক চুলায় আগুনহীন অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হন। শিল্পকারখানার উৎপাদনও থমকে গেছে, ফলে বিপাকে পড়েছে পুরো জেলার অর্থনীতি।
স্থানীয়রা জানান, উড়ালসড়কের পাইলিংয়ের কাজ শুরু হওয়ার পর ফতুল্লা ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ২৫ বার এমন পাইপলাইন ফাটার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, আর শিল্পাঞ্চলে নেমে আসে উৎপাদন সংকট। কোথাও কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
তিতাস গ্যাসের সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের ব্যবস্থাপক মশিউর রহমান বলেন,উড়ালসড়কের পাইলিং চলাকালে প্রধান পাইপলাইন ফেটে গেছে।মাটি খুঁড়তেই গভীর থেকে পাইপলাইন বেরিয়ে আসে এবং মাটি ভেঙে পড়ায় বারবার বিপত্তি তৈরি হয়। চারপাশে লোহার সুরক্ষা কাঠামো বসানোর কাজ চলছে। মেরামত শেষ হলেই সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।
অন্যদিকে উড়ালসড়ক প্রকল্পের পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, পাইলিংয়ের সময় পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত মেরামত শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের সমন্বয় জোরদার না করলে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নারায়ণগঞ্জবাসী এখন অপেক্ষায় আছেন কবে আবার চুলায় আগুন জ্বলবে, কবে স্বাভাবিক হবে শিল্পাঞ্চলের গতি।





