নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির রাজনীতি এখন চরম বিস্ফোরক। রূপগঞ্জের মনোনয়নন প্রত্যাশী দুলাল হোসেন মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান দীপু ভুইয়ার বিরুদ্ধে হত্যা, হুমকি, চাঁদাবাজি, জমি দখল, সন্ত্রাস এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনে রীতিমতো রাজনৈতিক ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছেন। দুলালের দাবি এখন রূপগঞ্জে বিএনপির নামে চলছে “দখলতন্ত্র আর আতঙ্কের রাজত্ব।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন সময় নারায়ণগঞ্জকে জানান , বিএনপিতে সদ্য যোগদানকারী রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার জাপান সফরসঙ্গী আবু হোসেন রানুকে “ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে আলিঙ্গন করে বরণ করে নিয়েছেন” দীপু ভুইয়া।বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আঁতাত করে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের দোসরদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সাধারণ মানুষের সম্পদ লুটে নিচ্ছে দীপু চক্র। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়ে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে এ কেমন সখ্যতা?

দুলাল হোসেন সময় নারায়ণগঞ্জকে দীপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জানান, জনগণ দীপু ভুঁইয়াকে মনোনয়ন দেয়ায় অসন্তোষ তাই তারা বিভিন্ন ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করছে, তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করায় আমার কর্মী-সমর্থকদের ফোনে, মেসেঞ্জারে ও বিভিন্ন মাধ্যমে হত্যা ও গুমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কারও বাসায় গিয়ে পর্যন্ত ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সাধারণ জনগণকেও হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। দীপুর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাকে মেরে ফেলা হবে এমন হুমকির মুখে ভয়ে দিন কাটাচ্ছে রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষ। দীপু ভুইয়ার অনুসারীরা এলাকাজুড়ে দখলদারিত্ব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট, জমি দখলসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত। আমার ভাগিনার অফিস দখল, ভুলতা ও রূপগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় হামলা করে আরো বেশ কিছু জায়গার দখল নিয়েছে এই দীপুর লোক। এসব কিছুর প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।

তিনি আরো বলেন, দীপু ভূঁইয়া মনোনয়ন পাওয়ার পরই পরিস্থিতি আরো বেশি অগ্নিগর্ভ হয়েছে। মনোনয়ন ঘোষণার পর দলের পক্ষ থেকে মিষ্টি বিতরণ ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হলেও ,দীপুর লোকজন আমার বাড়ির সামনে আতশবাজি ও বোমাবাজি করেছে। দীপু ভুইয়ার ঘনিষ্ঠ সুলতান, নাহিদ ও মফিকুল নামে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ এলাকা জুড়ে দীপু ভুইয়ার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি, জমি দখল, বালু ভরাট করে সাধারণ মানুষের জায়গা দখলসহ বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করে আসছে।ভোলাবো ইউনিয়ন, কাঞ্চন ইউনিয়ন, দাউদপুর ইউনিয়ন, কাঞ্চন পৌরসভা এবং ভুলতা গাউছিয়ায় সাধারন মানুষের জায়গায় বালু ভরাট করে তা দখল করে নিচ্ছেন দীপু ভুইয়ার লোকজন।মনোনয়ন পাওয়ার পরে ক্ষমতার অপব্যবহার যেনো আগুনে ঘি ঢালার মতো হয়ে উঠেছে।তাদের অপকর্মের মাত্রা আরো তীব্র হয়েছে।

দুলাল হোসেন আরোও অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফ্যাসিবাদের দোসর গোলাম দস্তগীর গাজীর সাথেও দীপুর ছিলো নিবিড় সম্পর্ক, প্রভাবশালী এবং আলোচিত সখ্যতা। ৫ আগষ্টের পরে রূপগঞ্জে ৮ থেকে ৯ টি খুন হয়েছে, আমাদের কাছে যথাযথ তথ্য আছে, এ সকল হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে দীপু ভুইয়ার দলীয় সন্ত্রাসীরা। দীপু ভুইয়া নারায়ণগঞ্জ এর গড ফাদার শামীম ওসমান এর খুবই ঘনিষ্ঠ লোক, ভুলতা গাউছিয়ায় শামীম ওসমানের যেই ভবন রয়েছে সেই ভবন তৈরীতে দীপু ভুইয়া ব্যপক সাহায্য করেছেন,এবং ৫আগষ্টের পরে সন্ত্রাসী শামীম ওসমানকে বিদেশ পালাতেও সাহায্য করেছেন এই দীপু ।
তিনি সবশেষ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত এর সূত্র ধরে আমরা নতুন বাংলাদেশ চাই,যেই বাংলাদেশ এ থাকবে নেতাকর্মীদের সাথে সাধারণ মানুষের সুসম্পর্ক।নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের জন্য জনগণের কল্যান সাধনে কাজ করবে।কিন্তু আমরা রূপগঞ্জে দেখতে পাচ্ছি ভিন্ন চিত্র। সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার বদলে দীপু ভুইয়া ভক্ষক হয়ে উঠেছেন।তিনি তার অনুসারীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সকল কিছু লুট করে নিচ্ছেন। এমন রাজনীতি আমাদের কাম্য নয়।ভয়ভীতি দেখিয়ে নয় জনগণকে ভালোবেসে,বুঝিয়ে শুনিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে হবে।জনগনকে আতংকিত করে হুমকি ধামকি দিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় কার্যক্রম চালালে ভোট কখনোই বিএনপির পক্ষে যাবে না। বিএনপির রাজনীতি, ভালোবাসার এবং মানুষের আস্থা অর্জনের রাজনীতি। হুমকি-ধামকি, আতঙ্ক সৃষ্টি, সন্ত্রাস এসব দিয়ে কোনোভাবেই ভোট পাওয়া যাবে না। রূপগঞ্জে আজ যা হচ্ছে তা বিএনপির আদর্শের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।
আমাদের এমন মনোনীত প্রার্থী কাম্য নয়।আমরা চাই জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী একজন কর্মী।
আমরা চাই রূপগঞ্জের বিএনপির একজন নিবেদিত প্রাণ যিনি দীর্ঘ ১৬ বছর জেল জুলুম,হামলা-মামলা সহ্য করেছেন এবং ক্লিন ইমেজ রক্ষাকারী একজন সত্যিকারের বিএনপি নেতা।






