নারায়ণগঞ্জ । বৃহস্পতিবার
১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতিকে বিদায় জানালেন বসন্তের কোকিল খ্যাত শাহ আলম !

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ও সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে পরাজিত হরিণ প্রতীকধারী স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে ভরাডুবির পর নিজ বাসভবনে অনুসারীদের ডেকে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আর সক্রিয় রাজনীতি নয় এবং ভবিষ্যতেও কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

সূত্রের দাবি, ফলাফল ঘোষণার রাতেই এবং পরদিন আবারও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বৈঠক করেন শাহ আলম। সেখানে তিনি জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, “এটাই শেষ” আর কোনো ভোটের মাঠে দেখা যাবে না তাকে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে শাহ আলমকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। নির্বাচন এলেই সক্রিয় হওয়া, বছরজুড়ে নীরব থাকা—এমন অভিযোগ বহুদিনের। স্থানীয় মহলে তিনি “দুধের মাছি”, “বসন্তের কোকিল”, “মৌসুমি পাখি” এসব উপাধিতেই বেশি পরিচিত। সমালোচকদের ভাষ্য, দুঃসময়ে দল থেকে দূরত্ব রেখে নির্বাচনের মৌসুমে হঠাৎ সরব হওয়াই তার রাজনৈতিক কৌশল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রয়াত সংসদ সদস্য সারা বেগম কবরী-এর কাছে পরাজিত হন। সেই পরাজয়ের পর দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নাটকীয়তা ছিল। শুরুতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলেও পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্ত বদলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী-কে। এরপর শাহ আলম নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে থাকলেও স্বেচ্ছায় দল থেকে সরে দাঁড়ান। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত যোগাযোগেই ছিলেন তিনি।

দীর্ঘ অনাগ্রহের পর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণার পর হঠাৎই নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন শাহ আলম। হরিণ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন। তবে ফতুল্লা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো তার বিপরীতে অবস্থান নেয়। জোট প্রার্থী হিসেবে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী মনোনয়ন পাওয়ার পরও শাহ আলমের প্রার্থিতা স্থানীয় রাজনীতিতে বিভাজন তৈরি করে।

ফলাফল বলছে, বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি তৃতীয় অবস্থানে থেকে পরাজিত হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল থাকা ও দলীয় সমর্থন না পাওয়া ছিল তার ভরাডুবির মূল কারণ।

নির্বাচনের রাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত—আর রাজনীতি নয়। সমালোচকদের কটাক্ষ, “সারা বছর ঘুম, ভোট এলে জাগরণ” এই চক্রের ইতি টানতেই কি এবার স্থায়ী বিদায়? নাকি সময়ই বলবে, এটি আরেকটি বিরতি মাত্র?

নির্বাচনী রাজনীতির নাটকীয় এই অধ্যায়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ দেখল খুব সম্ভবত এক পরিচিত মুখের ‘শেষ সুর’। তবে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই, এই বাস্তবতাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >